খবর লাইভ : ফের রাজ্য সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাত প্রকাশ্যে। রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা দেখতে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া হেলিকপ্টারে চেপে কোচবিহারের শীতলকুচি যাওয়ার কথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কড়া ভাষায় চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ওই চিঠিতে রাজ্যপালকে সাংবিধানিক রীতি ও বিধি মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী খোলাখুলিই অভিযোগ করেছেন, ‘সাংবিধানিক বিধি ও দীর্ঘদিনের পরম্পরা ভাঙছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।’ তবে রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের আপত্তিকে উপেক্ষা করে নির্ধারিত সূচি মেনেই আজ শীতলকুচি সহ কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তে চক্কর কাটবেন ধনকর।
রাজ্যে ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান ধনকর। গত সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার নয়া সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানোর পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে শীতলকুচি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোট হিংসা পর্যবেক্ষণে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার টুইট করে জানান, বিএসএফের দেওয়া হেলিকপ্টারে চেপে শীতলকুচি যাচ্ছেন তিনি। আর এদিন সন্ধ্যায় ফের টুইট করে জানান, বৃহস্পতিবার অসমের উদ্বাস্তু শিবিরগুলিতে যাবেন এবং পশ্চিমবঙ্গের হিংসায় ঘর ছেড়ে অসমে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনের সঙ্গে দেখা করবেন।
রাজ্যপালের সেই টুইটের পরেই রাজভবনের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি আপনি একতরফাভাবে ১৩ মে কোচবিহার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দু:খের বিষয় হল, এরফলে বছরের পর বছর ধরে যে বিধি রয়েছে, তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। সরকারি নীতি এবং রীতি অনুযায়ী, জেলা সফরের আগে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্যপালের সচিবের সূচি চূড়ান্ত করার কথা। সরকারি এমনকি, ব্যক্তিগত সফরের ক্ষেত্রেও এই নীতি অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের কমিশনার ও জেলা শাসককে বিষয়টি না জানিয়ে সরাসরি নেটমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন রাজ্যপাল। স্বরাষ্ট্র দফতরের ১৯৯০ সালের ‘ম্যানুয়্যাল অফ প্রোটোকল অ্যান্ড সেরিমনিয়্যালস’-এর পরিপন্থী।’ নিয়ম মেনে যাতে রাজ্যপাল জেলা সফর করেন, সেই কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যে আসার পর থেকে কার্যত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছেন রাজ্যপাল, তা নজিরবিহীন। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বা অভিসন্ধি কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই যে তাঁকে বাংলায় পাঠিয়েছে মোদি সরকার, তা পরিষ্কার। কলকাতা হাইকোর্ট যখন বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে, তখন রাজ্যপালের ভোট হিংসার অভিযোগ তুলে জেলা সফরে বের হওয়া অর্থহীন।’




