খবর লাইভ : দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনের আকাল। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকারের তরফ থেকে ১ মে থেকে ১৮ ঊর্ধ্বদের জন্য ভ্যাকসিন পরিষেবা চালু হয়েছে। কিন্তু দেশের একটা বড় অংশকে এই পরিষেবা দেওয়া যায়নি। মূলত এর পিছনে রয়েছে ভ্যাকসিনের অভাব। এই মুহূর্তে দেশে অক্সিজেন আর ভ্যাকসিনের জন্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাকসিনের জোগান পর্যাপ্ত নয়। ঠিক এই অবস্থায় কেন্দ্রকে তার দায়িত্ব স্মরণ করালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যাকসিনের বিপুল চাহিদা মেটাতে বিদেশি সংস্থাগুলিকে দিয়ে টিকা উৎপাদন করানো যেতে পারে। দেশে তাদের শাখা খোলার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র যদি চায়, তবে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানার জন্য এই সংস্থাগুলিকে জমিও দিতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
এদিন প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দেশ এবং রাজ্যের এই ভ্যাকসিনের সংকটকেই তুলে ধরে মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে দেশবাসী ও রাজ্যের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন আমদানির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
এদিনের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভ্যাকসিন হল একমাত্র হাতিয়ার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই দেশে ভ্যাকসিনের উৎপাদন জনগণের ব্যাপক প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে পর্যাপ্ত নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, এই মুহূর্তে দেশের বাইরে বিশ্বজুড়ে অনেক ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থা রয়েছে। দেশবাসীর কথা ভেবে বিজ্ঞানীদের এবং বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে এমন স্বনামধন্য নির্মাতাদের সনাক্ত করে দ্রুত ভ্যাকসিন আমদানি করা প্রয়োজন।
এমনকি দেশে ওইসব বিদেশি সংস্থার শাখা বা ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, সেক্ষেত্রে কেন্দ্র যদি চায় তবে টিকা তৈরির কারখানার জন্য রাজ্য জমি দিতেও রাজি। একই প্রস্তাব দেশের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকেও দিয়েছেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রচেষ্টা দ্রুত চালিয়ে যাওয়া উচিত।
আসলে এই মুহূর্তে যেভাবে করোনার দ্বিতীয় ঝড় দেশের উপর আছড়ে পড়েছে তাতে শুধু বাংলায় বিপর্যস্ত এমন নয়। বিপর্যস্ত গোটা দেশ। এই অবস্থাতে যত দ্রুত সম্ভব দেশবাসীর জন্য যাতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যায় সেই ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




