খবর লাইভ : শতাব্দী প্রাচীন দল। অথচ মানুষের মনে আর তেমন ভাবে দাগ কাটতে পারছে না কংগ্রেস। যেমন পশ্চিমবঙ্গে দলটি এবার খাতাই খুলতে পারেনি। অন্যদিকে আর চারটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটেও তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য আসন পায়নি তারা। কোথায় ফাঁক থাকল? কেন এমন দৈন্যদশা হল কংগ্রেসের? কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এনিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দলের অন্তর্বর্তী সভাপতি সনিয়া গান্ধি।
সম্প্রতি ফল প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরির মতো পাঁচটি রাজ্যে। কেরলে কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি আসন। অসমে প্রাপ্ত আসন ২৯টি। তামিলনাড়ুতে হাতে এসেছে ১৮টি আসন। কেন্দ্রশাসিত রাজ্য পুদুচেরিতে কংগ্রেসের ঝুলিতে পড়েছে ২টি আসন। আর বাংলায় ২০২১ এর নির্বাচনে খাতায় খুলতে পারেনি তারা। এমনকি মালদা, মুর্শিদাবাদেও মুখ থুবড়ে পড়েছে দল। বাংলাতে শূন্য হাতেই ফিরিয়েছে অধীর চৌধুরির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দলকে।
কেন এমন হাল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সিপিএমের সঙ্গে ‘হাত’ ধরাধরি তবুও ঠিক ছিল। কিন্তু আইএসএফের সঙ্গে জোট করাটাই বাংলাতে কাল হল অধীরদের। সূত্রের খবর, বামেদের সঙ্গে বাংলায় এবার আসন সমঝোতা নিয়ে ক্ষোভ ছিল কংগ্রেসের প্রথম সারির অনেক নেতারই। মনে করা হচ্ছে, এবার তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিতে পারেন অধীরের বিরুদ্ধে। লোকসভাতে কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেতার পদ হাতছাড়া হয়েছে অধীরের। এক্ষেত্রে অবশ্য কংগ্রেস শিবির অন্য ‘অজুহাত’ খাড়া করেছে। তাদের যুক্তি, নির্বাচনে প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে অধীরকে। তাই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হল ওই পদ থেকে। কিন্তু অধীর প্রচারের ময়দানে নামলেও লাভ কিছুই হয়নি। অনেকের আবার প্রশ্ন, তাহলে কি এবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদও হাতছাড়া হতে পারে তাঁর?
অন্যদিকে অসমে কংগ্রেস ও তার জোট সঙ্গীরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তেমন কোনও ফায়দা করতে পারেনি। কেন দলের এই বিপর্যয়? অথচ পশ্চিমবঙ্গ বাদে অন্য সব রাজ্যেই বেশ কয়েকবার প্রচারে গিয়েছেন খোদ রাহুল গান্ধি। তারপরও কেন এমন দশা? উত্তর খুঁজতে এনিয়ে এবার সিডব্লিউসি-র বৈঠকে কড়া বার্তা দিলেন সনিয়া। কী বার্তা দিলেন? এদিন সনিয়া বলেন, সব রাজ্যেই আমরা পরাজিত। এই ফল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। হারের কারণ পর্যালোচনা করতে খুব শীঘ্রই আবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হবে বলে। এমনকি এহেন লজ্জাজনক ফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




