State

বঙ্গজয়ের স্বপ্ন অধরা, হারের কারণ খোঁজা শুরু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের

0
(0)

খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিজেপির হারের দায় কার। কার জন্য এই অবস্থা তা খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। কেন বাংলায় এমন ফল হল, তা নিয়ে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জবাব তলব করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে চলতি বিধানসভা ভোটে পদ্ম শিবিরের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার জন্য অবশ্য অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার ভুল রণকৌশলকেই দায়ী করেছেন রাজ্য বিজেপির একাংশ। তাঁদের সঙ্গে একমত সঙ্ঘের প্রচারকরা। তাঁদের মতে, দলের আদি কর্মীদের উপেক্ষা করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুভেন্দু অধিকারী-রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংগঠনিক ভিত্তিহীন ভাড়াটে সৈনিকদের যেভাবে সামনের সারিতে রেখে ভোটে লড়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা চরম ভুল ছিল। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও চরম ভুল করা হয়েছিল। যোগ্য প্রার্থী ও দক্ষ সংগঠকদের পরিবর্তে ‘ত্রিপুরা’ মডেলের মতো করে ভোটে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাহ- নাড্ডারা। দিলীপ ঘোষ সহ বাংলার দলীয় নেতৃত্বকে কার্যত কোণঠাসা করে রেখে ভিন রাজ্য থেকে শয়ে-শয়ে নেতা-সাংসদ এনে ভোট পরিচালনার রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন তাঁরা।
গত মাস খানেক ধরে হেস্টিংসে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় গমগম করত। ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে যোগ দেওয়ার হিড়িকে কার্যত হেস্টিংসের কার্যালয়ে ঢোকাই দায় হয়ে উঠেছিল। অথচ রবিবার দুপুর থেকেই সেই অফিস খাঁ-খাঁ করছিল। কার্যালয়ে মুখ ছোট করে শুধু বসেছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অমিত মালব্য, সায়ন্তন বসু, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। একের পর এক আসন থেকে হারের খবর আসার খবরে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। দুপুর দেড়টা নাগাদই হার স্বীকার করে নেন বিজয়বর্গীয়। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, ‘প্রবণতাতে পরিস্কার, মমতাজিকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় বাংলার মানুষ। যে ফল আশা করেছিলাম, তা হচ্ছে না। তবুও আমরা অনেকটা উন্নতি করেছি। কেন এমন ফল হল তা পর্যালোচনা করা হবে।’
সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা বলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আড়াল করতে নেমে পড়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য নিয়েছিলাম অন্তত ২০০ আসনে জেতার তার তুলনায় আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা অনেকটা কম ছিল। তবুও কেন এমনটা ঘটনা ঘটল তা পর্যালোচনা করা হবে।’ একই কথা শোনা গিয়েছে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর কথায়, ‘আমাদের কাছে এই ফল মোটেও প্রত্যাশিত নয়। সাংগঠনিক দুবর্লতার কারণেও এমন ফল হয়ে থাকতে পারে। সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’
তবে দলের এই পরাজয়ে পরোক্ষে দলবদলুদেরও কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল থেকে যাঁরা এসে টিকিট পেয়েছিলেন, তাঁদের মানুষ কীভাবে নিয়েছে, কেনই বা গ্রহণ করল না তা আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *