খবর লাইভ : কখনও নামছেন, কখনও উঠছেন। গণনা শুরু হতেই যা দেখে অনেকেরই বুক ধড়ফড় করেছে নিঃসন্দেহে। দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ে অবশেষে জয়ের হাসি শুভেন্দু অধিকারী হাসলেও দলকে ভরাডুবির হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেন না। শুভেন্দুর কাছে হেরেও তাই স্বস্তির হাসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। কারণ তাঁর নেতৃত্বেই যে তৃণমূল তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করতে চলেছে। তবে মমতার হারের ব্যবধান বেশি নয়। মাত্র ১৫৫৩ ভোট।
নমিনেশন জমা দিতে গিয়ে পায়ে চোট পান মমতা। মনের জোরে চালিয়ে গেছেন লড়াই। জনসভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, ‘একপায়ে বাংলা দখল করব, আর দু’পায়ে দিল্লি।’ সেই কথাই কার্যত মিলে গেল বাস্তবে। কেন্দ্রের হেভিওয়েটদের প্রচারের বিরুদ্ধে একাই প্রচারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই লড়াইয়ে জোরদার সাফল্য পেলেন ‘দিদি’। নন্দীগ্রাম হয়তো নিজে হারলেন ঠিকই কিন্তু রাজ্যে ম্যাজিক ফিগারের বেশি আসন নিয়ে তাঁর দলকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করলেন মমতা।
একুশের নির্বাচনের শুরুতে যদিও বাংলার হাওয়া অনেকটাই গেরুয়া শিবিরের দিকেই যায়। নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই শুরু হয় দলবদলের পালা। সেই সময়ই অনেকেই ভেবেছিলেন এবার বাংলায় হয়তো গেরুয়া ঝড় বইতে চলেছে। চিন্তার ভাঁজ পড়ে অনেক তৃণমূলপন্থীদের কপালে।যদিও ফল বেরোতেই দেখা গেল, বাংলা আবার ঘরের মেয়ের ওপরই আস্থা রাখল। খুব কম ভোটের ব্যবধানে নিজে নন্দীগ্রামে তাঁর প্রাক্তন সৈনিক শুভেন্দুর কাছে হারলেও, শেষ পর্যন্ত দলকে বিপুল আসনে জিতিয়ে বাজিমাত করলেন বাংলার অগ্নিকন্যা।



