খবর লাইভ : কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ত্রস্ত ও বিপর্যস্ত দেশ৷ একদিকে সাড়ে তিন লক্ষ দৈনিক সংক্রমণ, অন্যদিকে নিভছে না চিতার আগুন৷ অক্সিজেন পাওয়ার জন্য হাহাকার তো রয়েছেই৷ দেশজুড়ে এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। ওয়াকিফহাল মহল আগে থেকেই পাঁচ রাজ্যের ভোটপ্রচার নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল৷ অনেকেই নির্বাচনী প্রচারে রাশ টানতে বলেছিলেন৷ কিন্তু গণতন্ত্রের উৎসব বন্ধ করতে রাজি হয়নি তারা৷ এর পিছনে কেন্দ্রের শাসক দলের মদদ রয়েছে বলে অনেকেই মতপ্রকাশ করেছেন৷ মাদ্রাজ হাইকোর্ট সোমবার নির্ভীক ভাবে সেই কথাই প্রকাশ করেছে৷ আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে ২ মে ভোট গণনা বন্ধ করবে আদালত। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কমিশন রাজনৈতিক প্রচারে লাগাম টানেনি৷ বিধি মানেনি রাজনীতিকরাও৷ কমিশনের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা উচিত৷ এভাবেই ভোটপ্রচার ও করোনা নিয়ে কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলে মাদ্রাজ হাইকোর্ট৷
আগামী ২ মে তামিলনাড়ু কারুর কেন্দ্রে ভোটগণনা। কিন্তু ভোটগ্রহণ চলাকালীন যে বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছে, ভোটগণনার সময় যাতে তেমন পরিস্থিতি দেখা না দেয়, তার জন্য কোভিড বিধি মেনে গণনার ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়ে আদালেত জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। তারই শুনানিতে সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি সেন্থিলকুমার রামমূর্তির ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে৷ এদিন আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের এমন বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী একমাত্র নির্বাচন কমিশনই। কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়া উচিত৷ করোনা সংক্রমণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অভিযুক্ত করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই ঘোষণা নজিরবিহীন। দেশের বিচারব্যবস্থা যে এখনও জেগে আছে, এটা তারই প্রমাণ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা৷
মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভোটের প্রচার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, লাগামহীন নির্বাচনের প্রচার যখন চলছিল, তখন আপনারা কি অন্য গ্রহে ছিলেন! আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কোভিড বিধি নিশ্চিত করতে পারেনি কমিশন। গণনার দিন কোভিড প্রোটোকল মানা নিয়ে কী ভাবছে কমিশন? ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাতে হবে কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট৷ তা না হলে ২ মে ভোটের ফল প্রকাশে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে৷



