খবর লাইভ : করোনা আক্রান্ত সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে হাসপাতালে বেডের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে শিকল দিয়ে৷ ঠিকমতো খাবার ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না৷ এর প্রতিকারে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন রবিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখেছেন৷ সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে কোভিড স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি৷ কাপ্পান গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হোক, আবেদন বিজয়নের৷ প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে ইউপির হাথরসে দলিত কিশোরীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার খবর করতে সেখানে যাচ্ছিলেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক৷ পথে তাকে বন্দি করে যোগীর পুলিশ৷ ইউএপিএ ধারায় মামলা দেওয়া হয়৷ সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ৷ তবে তাকে যে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তা প্রথম থেকেই বলে আসছে কেরলের সাংবাদিক মহলসহ বহু সচেতন ব্যক্তি৷ কিন্তু যোগী প্রশাসন তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলতে চাইছে, এমন অভিযোগ উঠছে৷ তাই হাসপাতালে এমন অব্যবস্থা৷
কাপ্পানের স্ত্রী রায়হানা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনাকে চিঠি দিয়ে একই আবেদন জানিয়েছেন৷ চিঠিতে রায়হানা দাবি করেছেন যে কাপ্পানকে হাসপাতালের বিছানায় বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তিনি গত চারদিন ধরে খাবার নিতে বা টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে আদিত্যনাথকে বিজয়ন লিখেছেন, খবরে জানা গেছে যে তিনি (কাপ্পান) ডায়াবেটিস এবং হার্টের অসুস্থতায় ভুগছেন। কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে মথুরার কেভিএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তাকে বিছানায় বেঁধে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আমি আপনাকে আন্তরিক অনুরোধ করছি যাতে কাপ্পানের প্রতি মানবিক আচরণ করা হয়৷ এবং এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়৷
কেরলের এগারোজন সাংসদও ভারতের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছেন কাপ্পানকে এইমসে স্থানান্তর করার জন্য আবেদন জানিয়ে৷ সাংসদ কে সুধাকরণ, কে মুরলিধরন, ইটি মুহাম্মদ বশির, ভি কে শ্রীকানন্দন, হরিদাস, বেনি বেহানান, টিএন প্রথাপন, ডিন কুরিয়াকোস, অ্যান্টনি, এন কে প্রেমচন্দ্রন এবং পিভি আবদুল ওহাব লিখেছেন, কাপ্পান অচেতন হয়ে পড়ার পরে গুরুতর আহত হন মথুরা জেলে৷ তিনি কোভিড-১৯ এ ভুগছেন এবং তাকে মথুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর এবং তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।


