National

কেন্দ্র সরকারের ভ্রান্ত টিকা নীতিকে কাঠগড়ায় তুলল চিকিৎসক সংগঠন

0
(0)

খবর লাইভ : গতবছর বড়মুখ করে নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, করোনার ভ্যাকসিন আসলেই তাঁর সরকার দ্রুত সারা দেশের মানুষের টিকাকরণ করবে৷ কিন্তু এখনও তেমন কোনও সাফল্য পায়নি সরকার৷ উল্টে দেশে ব্যাপক হারে বেড়েছে কোভিড-১৯৷ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা তিন লক্ষের ঘরে পৌঁছেছে৷ অনেক জায়গায় ভ্যাকসিন নষ্ট হচ্ছে তো কোনও রাজ্যে পাওয়া যাচ্ছে না৷ বেহাল দশা ভ্যাকসিনের৷ দেশের ফিজিসিয়ানদের খ্যাতনামা সংগঠন প্রগ্রেসিভ মেডিকোজ অ্যান্ড সায়েন্টিস্টস ফোরাম বুধবার এটা নিয়েই একহাত নিয়েছে কেন্দ্রকে৷ মোদি সরকার যে ভ্যাকসিন নীতি নিয়েছে তা একপ্রকার সামাজিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে সংগঠনটি মন্তব্য করেছে৷ মানুষকে বিনামূল্যে টিকা না দিয়ে একে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ প্রাইভেট কোম্পানি এ থেকে ফায়দা লুটছে৷ চড়া দামে বিকোচ্ছে টিকা যা অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও নিতে পারছেন না৷ অন্যদিকে, কেন্দ্র এই মহামারী মোকাবিলায় কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছে না৷ সরকারের এই ভুল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মেডিকেল ও বৈজ্ঞানিক কমিউনিটিকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে৷

সংগঠনের সভাপতি ডা. হরজিত সিং ভাট্টি এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলেন, এ ধরনের ট্র্যাজেডি বহু নাগরিক এর আগে কখনও দেখেননি৷ আর এই পরিস্থিতিতে সরকারের নেতিবাচক পদক্ষেপ জনগণের দুর্দশা আরও বাড়াচ্ছে৷ মঙ্গলবার যে করোনা টিকাকরণ নীতি ঘোষণা হয়েছে, তাও বিবেচনাহীন৷ এই নীতির পাঁচটি ত্রুটি তুলে ধরেছে তারা৷ প্রথমত, সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ডোজ মুক্ত বাজারের জন্য ঘোষণা করেছে৷ এ থেকে বেসরকারি কোম্পানিগুলি ব্যাপক ফায়দা লুটবে৷ ভুগবে সাধারণ মানুষ৷ ভোটে জেতার জন্য কিছু রাজ্যে ফ্রি ভ্যাক্সিনেশনের ঘোষণা দিয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, প্রাইভেট প্রস্তুতকারকদের ব্যাপক হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে৷ এতে জনগণের কী লাভ? করোনা টিকার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গতি আনতে সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেককে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে এই ঋণের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে দুই সংস্থাকে। এ তো তেলা মাথায় তেল দেওয়া৷ সরকারি ল্যাবরেটরিতে সাহায্য করলে এর উপকার পেতেন সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষজন৷ তৃতীয়ত, কেন্দ্র সরকার কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছে না৷ রাজ্যের উপর বর্তিয়েছে ভ্যাকসিন তৈরির ফরমান৷ এটা কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতাকে আড়াল করার কৌশল বলে মনে করছে এই সংগঠনটি৷ চতুর্থত, ভ্যাকসিন আসার পরে করোনার নয়া মিউট্যান্ট আবিষ্কার হয়েছে৷ এক্ষেত্রে আগের সেই ভ্যাকসিন কতখানি কার্যকর তা না পরীক্ষা করেই টিকাকরণ চলছে৷ এতে আদৌ ফায়দা হবে তো? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ অনেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও কোভিড আক্রান্ত হচ্ছেন৷ পঞ্চমত, সরকার ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের টিকা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে৷ এত বিপুল পরিমাণ টিকা কোথায় পাওয়া যাবে? সে নিয়ে কোনও ভাবনা কেন্দ্র সরকারের নেই৷

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *