State

আচ্ছে দিন না লবডঙ্কা! আম আদমি সুফল না পেলেও, সুদিন ফিরছে জনপ্রতিনিধিদের

0
(0)

খবর লাইভ : আম আদমির জীবনে ‘আচ্ছে দিন’ অধরা থাকলেও বঙ্গের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধির জীবনে কিন্তু সত্যিই ‘সুদিন’ চলছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজেরাই সেই সুদিনের কথা জানিয়েছেন তাঁরা। চলতি বিধানসভা ভোটে তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস ও বাম দলগুলির ২১০ বিদায়ী বিধায়ক ফের বিধায়ক হওয়ার লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮৪ জনের সম্পত্তিই বেড়েছে। তবে গত দশ বছর ধরে রাজ্যে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থাকা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২৬ বিধায়কের সম্পত্তি হ্রাস পেয়েছে।
শুক্রবার বেসরকারি নির্বাচনী নজরদার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) পক্ষ থেকে চলতি বিধানসভা ভোটে ফের লড়াইয়ের আসরে অবতীর্ণ হওয়া ২১০ বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ফের ভোটের লড়াইয়ে যাঁরা নেমেছেন সেই বিদায়ী বিধায়কদের গড় সম্পত্তি কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থা‍ৎ ৭৮ শতাংশ সম্পত্তি বেড়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে ওই ২১০ বিধায়কের গড় সম্পত্তি ছিল এক কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা।
এডিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি বেড়েছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের। পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ৩৯ কোটি ১৮ লক্ষ ৪ হাজার ৬৬৮ টাকা। তাঁর পরে সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে কসবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানের। তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ১৫ কোটি ৩ লক্ষ টাকার বেশি। দু’জনেরই অবশ্য পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। একাধিক শিল্প সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে রাজনৈতিক ডিগবাজি খেয়ে যাঁরা বিজেপির হয়ে এবারের ভোটে লড়ছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি বেড়েছে রাজারহাট-নিউটাউনের বিদায়ী বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের। গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ৫ কোটি টাকার বেশি। অর্থা‍ৎ ২২৯ শতাংশ সম্পত্তি বেড়েছে। ‘দলবদলু’ বৈশালী ডালমিয়া, শুভ্রাংশু রায়দের সম্পত্তিও পাঁচ বছরে কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। বৈশালীর সম্পত্তি বেড়েছে ১৩৪ শতাংশ আর মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৭ শতাংশ।
এডিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে চলতি ভোটে লড়ছেন ১৫০ বিধায়ক। পাঁচ বছর আগে তাঁদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৬০ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৩৪ টাকা। আর চলতি বিধানসভা ভোটে তাঁদের গড় সম্পত্তি দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭০৩ টাকা। গড়ে সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে ৮৪.৭৪ শতাংশ।
বিজেপির হয়ে এবার লড়তে নেমেছেন ২০১৬ সালে জয়ী ২২ বিধায়ক। পাঁচ বছর আগে তাঁদের এক কোটি ৪৬ হাজার ৭৫৮ টাকার সম্পত্তি ছিল। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪৮ লক্ষ ৮ হাজার ৪৯৪ টাকা। গড় সম্পত্তি বৃদ্ধির পরিমাণ ৪৭.৪ শতাংশ। কংগ্রেসের হয়ে ফের ভোটে লড়ছেন গতবারের জয়ী ২১ বিধায়ক। পাঁচ বছর আগে তাঁদের গড় সম্পত্তি ছিল ৮৪ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪৪১ টাকা। পাঁচ বছরে তা ৪৬.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৫ টাকা। সিপিআইএমের হয়ে ফের লড়ছেন ১৩ বিধায়ক। পাঁচ বছর আগে তাঁদের গড় সম্পত্তি ছিল ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৭১ টাকার। ‘সর্বহারাদের’ প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরে গড়ে ২০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৮৫৭ টাকার সম্পত্তি বেড়েছে। তবে দুই বাম শরিক আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের একজন করে বিধায়ক ফের ভোটের ময়দানে। দু’জনেরই সম্পত্তি কমেছে।
তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি পাঁচ বছরে অনেকটা কমেছে। গত পাঁচ বছরে ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে তাঁর সম্পত্তি। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে লড়তে নামার সময়ে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৫৬ টাকা। সেই সম্পত্তি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৯৬ টাকায়। মমতা ছাড়াও সম্পত্তি কমেছে আরও ২৫ বিদায়ী বিধায়কের। তৃণমূল বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, বুলুচিক বরাইক, নীহাররঞ্জন ঘোষ, কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র, সিপিআইএম বিধায়ক শ্যামলী প্রধানের সম্পত্তির পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *