খবর লাইভ : দেশে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। দৈনিক করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে ইতিমধ্যে৷ বৃহস্পতিবার পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এত করোনা রোগী আগে কখনও শনাক্ত হয়নি। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় যতসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, তা একটি বিশ্ব রেকর্ডও। বিশ্বের কোনও দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে এত রোগী আগে কখনও শনাক্ত হয়নি। বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকার পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। সংক্রমণের দিক দিয়ে সম্প্রতি ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত। ১৫ এপ্রিল থেকে ভারতে প্রতিদিন দুই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় প্রথমবারের মতো এক দিনে নতুন করোনা রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রে তিন লাখ অতিক্রম করল এই সংখ্যা৷ করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির মুখে বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউসহ বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু বাধ মানছে না কোভিড-১৯৷ করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় কেন্দ্র সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিদেশের মিডিয়াতে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে৷ দেশের সিস্টেম ভেঙে পড়েছে বলে অভিহিত করা হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে৷
ব্রিটেনের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এ ব্যাপারে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে৷ এত সংক্রমণের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার ভোট প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, বড় বড় জনসভা করছেন৷ এটা নিয়েও এই ব্রিটিশ পত্রিকার সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি৷ সমানভাবে দোষারোপ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকেও৷ স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের দিকে এই বিজেপি সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে না বলে কোভিড পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে বলে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ মতপ্রকাশ করেছে৷ ব্রিটেনের ‘ডেইলি মেল’ ট্যাবলয়েডটিও কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ নাসিকে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার লিকের কারণে ২২ জনের মৃত্যুর খবরটিও তারা প্রকাশ করেছে৷ ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ খবর প্রকাশের পাশাপাশি কোভিড নিয়ে একটি মতামত প্রকাশ করেছে যেটি লিখেছেন অর্থনীতিবিদ রামনান লক্ষ্মীনারায়ণ৷ ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন৷ এর জন্য কুম্ভ মেলার সমাবেশ, নির্বাচনী প্রচারকে তিনি দায়ী করেছেন৷ কাঠগড়ায় তুলেছেন মোদি সরকারকে৷ গত মাসে মোদির নামে নামকরণ করা একটি নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রায় লাখের কাছাকাছি মানুষ ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখতে ভিড় করেন। তার চেয়েও বেশি মানুষ কোনও প্রকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা না নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে মোদির নির্বাচনী প্রচার ও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। আবার মোদি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সহকর্মীদের উৎসাহ ও সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয় কুম্ভ মেলা, মহামারির মধ্যেই যাতে অংশ নেন ৩৫ লাখ মানুষ। ফলস্বরূপ, আকাশছোঁয়া সংক্রমণ বৃদ্ধি আর তার সঙ্গে টিকাদানে দরকারি ডোজের সঙ্কটে পড়েছে দেশ। ফ্রান্সের পত্রিকা ‘লা মান্ড’, ব্রাজিলের ‘ও গ্লোব’, ‘জাপান টাইমস’, অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’সহ আরও বহু পত্রিকা ভারতের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছে৷ সবারই মত, কেন্দ্র সরকারের পর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভাবে ভারত ক্রমশ ধ্বংসের মুখোমুখি৷



