খবর লাইভ : একটি চার-সদস্যের তদন্ত কমিটি, যা সম্প্রতি ইন্ডিগো বিমান সংস্থার বহু ফ্লাইট বাতিল ও সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। সেখানে আগামী বুধবার বিমান সংস্থার সিইও পিটারে এলিবারস এবং সিওও দুজনকেই তলব করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কেন তারা তলব করা হবে
গত কয়েক দিন ধরে ইন্ডিগোর বহু ফ্লাইট বাতিল এবং সময়মতো পরিষেবা দিতে ব্যর্থতার পটভূমিতে ডিজিসিএ-র তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফ্লাইট বাতিলের কারণ, কর্মী ব্যবস্থাপনা, রোস্টারিং (কাজের সময়সূচি), নতুন পাইলট বিশ্রাম- ও ডিউটি-নিয়ম পালন হয়েছে কি না সবকিছু নিয়েই খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড
এই নয়া নিয়ম অনুযায়ী, পাইলট ও ক্রুদের জন্য দীর্ঘ বিশ্রাম ও ডিউটির সময় সীমা পুনর্গঠন করা হয়েছে। ৭ই জুলাই থেকে নিয়মের কিছু ধাপ ও ১লা নভেম্বর থেকে বাকি ধাপ কার্যকর হয়েছে।
এফডিটিএল-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরিমিত বিশ্রাম এবং কাজের সময় ঠিকভাবে না মেনে হলে বিমান সংস্থার জন্য কাজ ধরতে সমস্যা হতে পারে — এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা ষো-কজ নোটিশের জবাব দিয়েছে। তবুও, কমিটি তাদের জবাব “পর্যাপ্ত” হয়নি বলে মনে করছে। সে কারণেই সিইও ও সিওও তলব করার কথা উঠেছে।
আগামীতে কী হতে পারে
তলবের পর তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
যদি দেখা যায়, নিয়ম করলে ও পরিকল্পনা ঠিকভাবে না হলে তা দায়ী হিসেবে সিইও-সিওও’কে দায়ী করা হতে পারে, এবং ডিজিসিএ এর পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যাত্রীদের দিকে থেকে যারা বাতিল হওয়া ফ্লাইটে পড়েছেন তারা ক্ষতিপূরণের জন্য দাবি করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে এমন বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি এড়াতে যথাযথ নীতি-পরিকল্পনা আশা করা হচ্ছে।
ইন্ডিগো বিপর্যয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু প্রথম থেকেই বিষয়টির উপর নজর রেখেছেন। তবে পরিস্থিতি খারাপের অন্যতম কারণ কেন্দ্রের জারি করা নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ (এফডিটিএল)। পাইলট এবং কর্মীদের ছুটি সংক্রান্ত বিধির কারণে সঙ্কটে পড়ে ইন্ডিগো। এফডিটিএলের ২২টি নির্দেশিকার মধ্যে ১ জুলাই থেকে ১৫টি নির্দেশিকা চালু হয়। বাকি সাতটি ১ নভেম্বর থেকে চালু হয়। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই ২২টি নীতি বিমানসংস্থাগুলিকে মানতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে সব বিমানসংস্থার সঙ্গে নতুন নীতি কার্যকরের বিষয়ে যোগাযোগও রেখেছে কেন্দ্র। কিন্তু তার পরেও সমস্যার কথা জানায়নি ইন্ডিগো, এমনই দাবি নায়ডুর।




