খবর লাইভ : রাজ্যে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের গ্রাফ। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বুধবার থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুল ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। দীর্ঘ ১১ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল স্কুলের দরজা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বেলাগাম হতেই ফের স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
আসলে করোনা পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে তাতে কোনওভাবেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বিশেষ করে করোনার দ্বিতীয় স্রোতের যেখানে শিকার হচ্ছে পড়ুয়ারাও। তাই আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে এই ব্যবস্থা নিল রাজ্য। এদিন এপ্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যেভাবে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে আমরা কোনওভাবেই পড়ুয়াদের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে পারি না। সব দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চ মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হতেই ফের স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখনও গরমের ছুটি পড়েনি। এক্ষেত্রে সেই ছুটিই এগিয়ে আনা হল বলে জানানো হচ্ছে। যেভাবে চারিদিকে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, যেভাবে আছড়ে পড়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ, তাতে স্কুল খুলে রাখা ঠিক বলে মনে করছে না রাজ্য সরকার। সম্ভবত আজই এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নবম থেকে দ্বাদশের সমস্ত ক্লাসই বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও স্কুলে আসতে হবে না। এ প্রসঙ্গে গরমের ছুটি এগিয়ে আনার কথা বলা হলেও, যতদিন না কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন স্কুল বন্ধ থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার আগামিকাল থেকে সমস্ত স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই ছুটি বহাল থাকবে। উল্লেখ্য করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় রাজ্যের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করেছে সিবিএসই। স্থগিত রাখা হয়েছে দ্বাদশের পরীক্ষাও। স্থগিত হয়েছে জেইই মেন। তবে রাজ্যে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারণ এই দুটি পরীক্ষা রয়েছে জুন মাসে। এদিকে, রাজ্যে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার পার করেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আক্রান্ত হচ্ছেন কোভিডে। সকলের মধ্যেই একটা আতঙ্ক কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জীবনকেই আগে গুরুত্ব দেওয়া হল।
এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘এই মুহূর্তে সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যেভাবে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত বলেই আমার মনে হয়েছে।’ এখন দেখার এর ফল আদৌ ছাত্র-ছাত্রীরা পায় কিনা।




