খবর লাইভ : রাজ্যসভায় উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের ইস্তফা গৃহীত হওয়ার ঘোষণার পরই বিরোধীদের তীব্র হট্টগোলে উত্তাল সংসদ। একদিকে যখন তৃণমূল নেতানেত্রীরা সামাজিক মাধ্যমে ধনকড়ের আরোগ্য কামনা করছেন, ঠিক সেই সময়েই উঠে এল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তথ্য। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অনুরোধে আগামী আগস্টেই রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
জানা গিয়েছে, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গ সফরের অনুরোধ জানান এবং সেই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন অমিত শাহ নিজে। সম্ভাবনা জোরালো, পয়লা জুনের পর এবার আগস্টেই বাংলায় পা রাখতে চলেছেন শাহ।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজ্যে মেগা সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার তার রেশ কাটতে না কাটতেই শাহর আগমন বার্তা বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মোদি সফরের পর শাহর এই আসা নিছক কাকতালীয় নয়, বরং এটা দলীয় কৌশলেরই অংশ।
গত সফরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন অমিত শাহ। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সরকারের ‘তোষণের রাজনীতি’ নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন তিনি। এবারও তেমন আক্রমণ শানাতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগেও ‘সিঁদুর’ ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই লেভেলে নামলে দীপক ঘোষের বই ছাপিয়ে বিতরণ করব।
এই প্রেক্ষাপটে শাহর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি ফের সরগরম হতে চলেছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং নারী নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা।
বলা যেতে পারে, আগস্টে শাহর সফর শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং তৃণমূলকে রণক্ষেত্রে নামানোর একটি বড় কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতে চলেছে বিজেপির তরফে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেন এই সম্ভাব্য সফরের জবাবে।




