খবর লাইভ : একুশে জুলাইয়ের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলা ভাষার গৌরব ও আত্মমর্যাদা’ নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক বক্তব্যের রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ।
শমীক অভিযোগ করেন, মমতা কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্যে বাংলা ভাষায় বাঙালিদের ‘হেনস্থা’ দাবি করছেন। অথচ বাস্তবে তিনি ‘বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের’ জন্য আধার ও রেশন কার্ড সরবরাহ করে ফেলছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের এনে ভুয়া আধার কার্ড বানিয়ে দেবেন। অথচ তল্লাশিতে ধরা পড়ে বাংলাদেশের বলে চিহ্নিত হলে, তখন মুখ্যমন্ত্রী বলবেন, বাঙালিদের উপর আক্রমণ।
তিনি আরও যে, বাংলা ভাষার ‘আত্মমর্যাদার’ স্লোগানে মমতা তাদের বিভাজনের রাজনীতিকে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করছেন, ইতিহাস বিকৃতি করছেন। শমীক বলেন, তৃণমূল বাংলা ভাষাকে আক্রমণ করছে, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রকে সম্মান করছে না। মুখ্যমন্ত্রী একদিকে বাঙালির ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করছেন।
শমীক দাবি করেন, মমতা ভোটার তালিকা থেকে ‘অযাচিত’ নাম বাদ দিতে চান না। তিনি বলেন, তৃণমূল চায় রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কাজ চালাক, জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেন নাম বাদ দেয়, তবেই পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকা হবে।
মমতার বেকারত্ব হ্রাসের দাবি প্রসঙ্গেও জবাব দেন শমীক। বলেন ৪০ % বেকারত্ব কমেছে বলছেন, কিন্তু বাস্তবে MSME-এ ঢুকিয়ে ভিন্ন পরিসংখ্যানে উপস্থাপন করছেন। কেন ৬০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বেড়েছে? মেধাবী ছাত্র ছেড়ে ভিনরাজ্যে যাচ্ছে কেন?
এমনকি, শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে শমীক বলেন, উত্তরকন্যা বা শিলিগুড়ি শাখা সচিবালয় খোলা হয়েছে। কিন্তু কার্যকরী সুবিধা নেই সেখানে, সব কিছু কলকাতা কেন্দ্রিক।
তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, এই ভাষার বক্তব্য আসলে বিভাজনের রাজনীতি। গুজরাটের মতো অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ, তবে ইচ্ছা ও সঠিক নেতৃত্ব দরকার।




