Special News Special Reports State

ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজ্যকে তুলোধোনা হাইকোর্টের, দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ: বাকিটা আদালত বুঝবে

0
(0)

খবর লাইভ : কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিল  হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। এই বিষয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনীতিমুক্ত করা উচিত।

আদালতের প্রশ্ন, যেখানে উপাচার্য রয়েছেন, সেখানেও কেন ভোট হচ্ছে না? রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও স্থায়ী উপাচার্য নিযুক্ত হয়নি, ফলে সেখানে ভোট করানো সম্ভব নয়। তাঁর যুক্তি, অস্থায়ী উপাচার্যরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাঁদের ক্ষমতা সীমিত।

তবে এই যুক্তি ধোপে টেকেনি আদালতের কাছে। বিচারপতি সেন সাফ জানিয়ে দেন, আপনারা ভোট করাবেন না, কারণ উপাচার্য নেই, এই যুক্তি মানা যায় না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য আছেন, সেখানে বাধা কোথায়?

ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। “আপনারা বিজ্ঞপ্তি জারি করুন, বাকিটা আদালত দেখবে,” মন্তব্য বেঞ্চের। সেইসঙ্গে রাজ্যকে জানাতে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী।

মামলাকারী আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দীর্ঘদিন হয়নি বলে অভিযোগ জানান। তিনি আদালতে এক হলফনামাও পেশ করেন, যেখানে বলা হয়, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর কোনও ছাত্র সংগঠন নেই। এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশ, যেসব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈধ ছাত্র সংসদ নেই, সেখানে ছাত্র সংসদ কক্ষ তালাবদ্ধ রাখতে হবে। কোনও ছাত্র নির্দিষ্ট লিখিত অনুমতি ছাড়া ওই কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তবে এই নির্দেশ শুধুমাত্র ছাত্র সংসদ কক্ষের জন্য প্রযোজ্য, ছাত্রী ও ছাত্রদের কমন রুম বা বিনোদন কক্ষের জন্য নয়।

এর আগে গত মার্চ মাসে এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে হলফনামা চেয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কিন্তু এতদিনেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আদালত এবার আরও কড়া অবস্থান নিল।

বিচারপতি সেনের স্পষ্ট বার্তা, “স্কুল-কলেজে রাজনীতির জায়গা নেই। পরিচালন সমিতিতে রাজনৈতিক নেতা নয়, শিক্ষাবিদদের রাখা হোক।”

আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে রাজ্যকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাতে হবে হাইকোর্টে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *