খবর লাইভ : একটা রাত, একটা মুহূর্ত সবকিছুই পাল্টে দিয়েছে রমেশ কুমার বিশ্বাসের জীবনে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ এখন চুপচাপ, নির্জন। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, বিছানায় বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোনও কথা বলেন না, কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। কারণ, তাঁর মনে এখনও গভীর দাগ কেটে রয়েছে সেই ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি।
গত ১২ জুন আমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় পাইলট, কেবিন ক্রুসহ ২৭০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। পুরো বিমানে শুধু একজনই প্রাণে বেঁচে যান ১১এ নম্বর সিটে বসা বিশ্বাস কুমার রমেশ।
তাঁর খুড়তুতো ভাই সানি জানান, রমেশ এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নিজের চোখের সামনে দেখেছেন কীভাবে ধ্বংস হয়ে যায় বিমানটি, কীভাবে হারিয়ে যান তার প্রিয় দাদা অজয়। “ও মাঝরাতে হঠাৎ উঠে পড়ে, কিছু বলে না। দিনের পর দিন ঘুমের অসুবিধায় ভুগছে। মনে হচ্ছে, এখনও সেই বিমানের ভিতরেই আটকে আছে,” বলেন সানি।
দুর্ঘটনার পর রমেশকে ভর্তি করা হয় আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে। চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর গত ১৭ জুন তাকে ছাড়া হয়। সেদিনই তাঁর দাদার দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বর্তমানে রমেশ পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিচ্ছেন ট্রমা কাটিয়ে উঠতে। লন্ডনে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই এখনই, কারণ চিকিৎসা সদ্য শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দেশ-বিদেশ থেকে যোগাযোগ রাখলেও, রমেশ এখনও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন।
ভয়াবহ সেই রাতের স্মৃতি আজও যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসে ফিরে আসে তাঁর জীবনে। এক অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া মানুষের নিঃসঙ্গ লড়াই চলছে জীবনের সঙ্গে, মনের সঙ্গে।




