চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে এবার ঘটলো এক অভাবনীয় ঘটনা! কলেজের ইউনিয়ন রুম, যেখানে সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক আলোচনা বা সাংগঠনিক কার্যকলাপ চলে, সেখানেই এক জোড়া প্রেমিক যুগল রীতিমতো মালাবদল করে বিয়ের পর্ব সম্পন্ন করে ফেললেন।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণবঙ্গের এক সরকারি কলেজে। প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়েই কলেজের পড়ুয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে ছিলেন বলে জানা গেছে। কলেজ প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ‘ইউনিয়ন রুম বিয়ে’ চুপিসারে আয়োজন করা হলেও, মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। উপস্থিত বন্ধুরা মালাবদলের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেই তা ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো।
এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবশ্য কোনও হেলদোল নেই। কলেজের এক সিনিয়র অধ্যাপক বলেন, কলেজ প্রেমের জায়গা হতে পারে, কিন্তু বিয়ে করার জায়গা নিশ্চয়ই নয়! এটি শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
এটাও কিন্তু এক ধরনের ছাত্র রাজনীতির প্রভাব। যেখানে ইউনিয়ন রুম একটি ‘নিরপেক্ষ স্থান’ বলে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের চোখেই তো দেখছেন, রাজ্যে শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। এই ঘটনা তার প্রতিফলন মাত্র। এই ঘটনায় কেউ আইনি অভিযোগ দায়ের না করলেও, রাজ্যের শিক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে কলেজ প্রশাসনকে জবাবদিহির নির্দেশ দিতে পারেন।
আমার প্রশ্ন আম জনতার কাছে। কলেজের মধ্যে এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান কীভাবে সম্ভব হলো? প্রশাসন কী করছিল? আর এর ফলে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি আদৌ কতটা রক্ষা পাবে।
বিবাহিত ওই যুবক অশোক গায়েন, তিনি কাকদ্বীপের বাসিন্দা। তবে এই কলেজের ছাত্র নন। পাত্রী এই কলেজের ছাত্রী। সব দেখে শুনে বলতে ইচ্ছে করছে , সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এ রাজ্য!




