খবর লাইভ : ভারতের হিমাচল প্রদেশে রেকর্ডবৃষ্টির পর মেঘভাঙা, হড়পা বানে বিধ্বস্ত মণ্ডি ও আশেপাশের জেলা। সেখানে অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে ।
শুধুমাত্র মণ্ডি জেলাতেই গত দুই-তিন দিনের ভিতর ১১টি মেঘভাঙা, চারটি হড়পা বান ও ভূমিধস হয়েছে। শুধু মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু এবং ৩৪ জন নিখোঁজ।এর পরেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের টিম, রাজ্য পুলিশ ও হোমগার্ড মিলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩১৬ জন উদ্ধার করা হয়েছে শুধুমাত্র মণ্ডি থেকে, আর রাজ্যব্যাপী মোট উদ্ধার হয়েছে ৩৩২ জন। বিপুল সংখ্যক রাস্তা, ব্রিজ, ঘর, বিদ্যুৎ ও পানীয় জোগানের লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মণ্ডি জেলার ২৪৯টি রাস্তা বন্ধ ।
রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুকু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চলছে। আবহাওয়া দফতর ৭ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (কমলা সতর্কতা) জারি করেছে।
কাংড়া জেলায় মৃতের সংখ্যা ১৩। চম্বায় মৃত ৬, শিমলায় ৫। এ ছাড়াও বিলাসপুর, হামিরপুর, কিন্নৌর, কুল্লু, লাহুল স্পিতি, সিরমৌর, সোলান এবং উনা থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যে আহতের সংখ্যাও ১০০ ছাড়িয়েছে।
শুধু প্রাণহানিই নয়, সম্পত্তির বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে গোটা রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪০০ কোটির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন উদ্ধারকাজ, নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানকেই গুরুত্ব দিতে চাইছেন তাঁরা, এমনই জানিয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের বিশেষ সচিব ডিসি রানা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকশো বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে। ১৪টি সেতু জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। ৩০০ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্য জুড়ে ৫০০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোনও রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। কোনও রাস্তা আবার ভেসে গিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বেশ কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। পানীয় জলের পরিষেবাও ব্যাহত।




