National Special News Special Reports

বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন, কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

0
(0)

খবর লাইভ : বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ বা নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করল নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষত বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই নয়া বিধিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে।

সম্প্রতি কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রায় ৪.৯৬ কোটি ভোটারকে নতুন করে কোনও পরিচয়পত্র বা প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে না। এমনকি তাঁদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলাদা নথিপত্র জমারও প্রয়োজন নেই।

কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

1. ২০০৩ সালের তালিকাভুক্ত ভোটারদের জন্য কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

2. যাঁরা ওই তালিকায় নেই, তাঁরাও তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ওই তালিকায় থাকলে তা ব্যবহার করতে পারবেন। আলাদা করে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন পড়বে না।

3. এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমান ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশকে নতুন করে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। শুধু তালিকা যাচাই করে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ (EF) পূরণ করলেই চলবে।

 

কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে বিহারে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭.৮৯ কোটি। প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে গিয়ে দেওয়া হচ্ছে EF ফর্ম। যাঁরা নতুন ভোটার, তাঁদের অবশ্যই ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’-এর সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রমাণের উপযুক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে।

ভোটারদের জন্মতারিখ অনুযায়ী কাগজপত্র জমার নিয়মও নির্ধারিত করা হয়েছে:

১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্ম হলে: ভোটারদের জন্মতারিখ বা জন্মস্থান প্রমাণে কমিশনের তালিকাভুক্ত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি জমা দিতে হবে।

১৯৮৭ থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম: নিজস্ব এবং বাবা-মায়ের জন্ম সংক্রান্ত একটি করে নথি দিতে হবে।

২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের পর জন্ম: নিজের ও বাবা-মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ প্রমাণে পৃথক নথি জমা দিতে হবে।

বাবা-মা যদি ভারতীয় না হন: সে ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও সন্তান জন্মের সময়কার ভিসার অনুলিপি জমা বাধ্যতামূলক।

এই নিয়মগুলিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মুখর হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই নিয়ম বাস্তবে বহু মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। তৃণমূলের মতে, বহু মানুষই পুরনো সময়ে বাড়িতে প্রসবের ফলে কোনও জন্ম শংসাপত্র পাননি। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই প্রমাণ জোগাড় করাও কঠিন।

নির্বাচনের আগে কমিশনের এই পদক্ষেপ বিহারে রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ঘিরে দেশের দুই রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন যে আরও বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *