খবর লাইভ : ‘মোদি পদবি’ মামলায় রাহুল গান্ধীর অস্বস্তি যেন দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। একে তো সুরাট আদালতে রাহুলের মামলা যিনি শুনেছিলেন তাঁর সঙ্গে বিজেপির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সামনে এসেছে। এবার বাদ গেল না গুজরাট হাই কোর্টও। জানা গিয়েছে, বর্তমানে গুজরাট আদালতে রাহুলের মামলা যিনি শুনছেন তাঁর সঙ্গেও নাকি বিজেপির যোগাযোগ স্পষ্ট। আর এমন ‘সত্য’ সামনে আসার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এরপরই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, বিচারপতিদের বিজেপি যোগ যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সুরাটের দায়রা আদালতে সোনিয়া তনয়ের মামলা শুনেছিলেন আর পি মোগেরা। আর সেই বিচারক নাকি একসময় মামলা লড়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হয়ে। তবে এখানেই শেষ নয়, এবার গুজরাট হাই কোর্টে যে বিচারপতি রাহুল গান্ধীর মামলা শুনছেন তাঁর সঙ্গেও বিজেপির প্রত্যক্ষ যোগাযোগের অভিযোগ সামনে এসেছে। মোদি পদবি মামলায় সুরাটের দায়রা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাট হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল। তবে সোনিয়া তনয়ের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি গীতা গোপির এজলাসে। কিন্তু প্রথম শুনানির দিনই বিচারপতি গীতা গোপি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজেকে এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপরই সেই মামলা গড়ায় বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছকের এজলাসে। শনিবারও এই মামলার শুনানি হয়। কিন্তু এর মধ্যেই বিচারপতিকে নিয়ে হাত শিবিরে আশঙ্কার কালো মেঘ উঁকি দিতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গীতা গোপীর এজলাস থেকে কী কারণে মামলা সরে গেল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে কি পুরোটাই বিজেপির চক্রান্ত? এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক এক সময় বিজেপি নেতাদের হয়ে একাধিক মামলা লড়েছেন। এমনকী গুজরাট দাঙ্গায় অভিযুক্ত তৎকালীন মন্ত্রী মায়া কোদনানির হয়েও মামলা লড়েছেন তিনি। এছাড়াও আমেদাবাদের নারোদাগাঁও মামলায় সম্প্রতি বেকসুর খালাস হওয়া মায়া কোদনানিদের হয়ে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে বিরোধীদের দাবি, বিজেপি ঘনিষ্ঠতার পুরস্কারও পেয়েছেন বিচারপতি হেমন্ত প্রচ্ছক। ২০১৫ সাল পর্যন্ত গুজরাট হাই কোর্টের প্লিডার হিসাবে কাজ করতেন তিনি। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে গুজরাট হাই কোর্টে সরকারি আইনজীবী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। এরপরই বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। আপাতত রাহুলের মামলা রয়েছে তাঁর হাতেই।




