Special News State

মুকুলের গতিবিধি মোটেই ভালো লাগছিলো না সংঘ পরিবারের! ভোটের আগেই করা হয় সতর্ক

0
(0)

খবর লাইভ : প্রার্থী হয়েও প্রচারে সেভাবে অংশ না নেওয়া। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় তাঁর প্রশংসা। ভোটের পর বিধানসভা কক্ষে ঢুকেই প্রথম দেখা করেছিলেন তৃণমূল নেতা, বিধায়কদের সঙ্গে। এরপরই অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই তৃণমূলে যোগদান মুকুল রায়ের। বিজেপি যে কিছুই জানত না, তা কিন্তু মোটেই নয়। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মুকুলের গতিবিধি সন্দেহজনক হয়ে উঠেছিল। আর সেই রিপোর্ট ফলাও করে বিজেপি দফতরে পাঠিয়েছিল আরএসএস।

একুশের নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিলেন মুকুল রায়। আর এই নিয়ে বিজেপিকে সতর্কও করেছিল সঙ্ঘ পরিবার। মুকুল এবং শুভ্রাংশু রায় যে তলে তলে ঘাসফুল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সে খবর আগে থেকেই ছিল আরএসএসের অন্দরে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বঙ্গ বিজেপি নেতা বলেন, ‘আরএসএসের রিপোর্ট পাওয়ার পরই কিছুটা হলেও সতর্ক হয়েছিল শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপরই বাবা ও ছেলেকে সেন্সর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মুকুল রায়ের ক্ষমতা কিছুটা হলেও খর্ব করা হয়েছিল। ‘ তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে মুকুল রায়ের উপর দল সমস্ত দায়িত্ব ছেড়েছিল। বিরাট সাফল্যও পেয়েছিলেন। বাংলা থেকে যে ১৮ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিল, তার মধ্যে বেশিরভাগই মুকুল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তখন থেকেই মুকুল রায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে দিলীপ ঘোষের। আর সে কারণেই ২০২১ নির্বাচনে মুকুলকে সক্রিয় ভূমিকায় পাওয়া যায়নি। দলও তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে একটি মাত্র আসনেই আটকে রেখেছিল।

বিজেপিকে দেওয়া রিপোর্টে আরএসএস জানিয়েছিল, মুকুল রায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কেবলমাত্র ফোনেই নয়, তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও করছিলেন তিনি। তার কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, লোকসভা নির্বাচনে ভাল ফলাফলের পরও তাঁকে বঙ্গ ব্রিগেডের শীর্ষস্থানীয় কোনও পদ দেওয়া হয়নি। মূলত রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর একটা ঠান্ডা লড়াই চলছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘২০১৯ সালের ফলাফলের পর মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ দেওয়া হয়। তবে তিনি বুঝেছিলেন এই পদ কেবলমাত্রা একটা অলংকার। তিনি বিজেপির হয়ে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে চেয়েছিলেন।’ রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হয়তো সে কারণেই গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মুকুল রায়কে সেভাবে দেখা যায়নি। প্রচারেই তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বলে বারবার দাবি করেছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী কৌশানি। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানে জনপ্রিয়তার দৌড়ে মুকুলকে ধরে রাখা যায়নি। ঠিক যেভাবে বিজেপি ব্যর্থ তাঁকে দলে ধরে রাখতে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *