State

কালিয়াচকের হত্যাকাণ্ডের পুনর্গঠন,কী হয়েছিল সেদিন? অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণ পুলিশের

0
(0)

খবর লাইভ : মালদার কালিয়াচক হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভিযুক্ত আসিফ ও তার দাদা আরিফকে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে তদন্তকারীরা গিয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে।কীভাবে নিজের বাবা-মা, বোন ও ঠাকুমাকে ‘খুন করেছিল’ আসিফ, সেটা তাঁকে ফের পুলিশের আধিকারিকদের সামনে করে দেখাতে বলা হয়। একই সঙ্গে এটাও দেখা হয় যে আরিফ সেদিন কীভাবে বেঁচে পালিয়ে গিয়েছিল। গোটা ঘটনাটিকে আরিফকেও করে দেখাতে বলা হয়। শুধু তাই নয়। পুলিশ এখন আসিফদের গুদামঘর নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

কালিয়াচক হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডি নিজেদের হাতে নিয়েছে। তবে পুলিশও তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের পরে জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, ‘আসিফ নিজে ঘুমের ওষুধ খেত। সেই ওষুধই সে বেশি পরিমাণে মিশিয়ে দিয়েছিল ফলের জুসে। যা খেয়ে কার্যত জ্ঞান হারিয়েছিল বাড়ির পাঁচ সদস্যই। কিন্তু কোনও কারণে ওই ৫জনের মধ্যে আরিফের জ্ঞান ফিরে এসেছিল। আসিফ ওই ৫জনকেই প্লাইউডের তৈরি পাঁচটি কফিনে শুইয়ে জলে ভর্তি করা মাটির নীচের চৌবাচ্চাতে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু যে কোনও কারনের জন্য হোক আরিফের জ্ঞান ফিরে আসায় সে আসিফের কবল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিন প্রায় দুই ঘন্টার বেশী সময় ধরে ঘটনার পুর্ণগঠন করা হয়। ঘটনার পুর্নগঠন করতে আনা হয়েছিল চারটি ম্যানকুইন। আনা হয়েছিল প্ল্যাইউড। তা দিয়ে কেমন করে কফিন তৈরি করা হয়েছিল তাও আসিফকে করে দেখাতে বলেন পুলিশের আধিকারিকেরা। তারপর সেই কফিনে কেমন করে সে সবাইকে শুইয়ে দিয়েছিল তাও করে দেখাতে বলা হয় তাকে। পুলিশ এদিন জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত সঠিক পথে হচ্ছে। শীঘ্রই খুনের ঘটনায় চার্জশিট দেওয়া হবে।

আসিফ মহাম্মদের কার্যকলাপ দেখে এখন জেলা পুলিশ প্রশাসনের মনে করছে, এই যুবক কোনও জঙ্গি সংগঠন বা সাইবার ক্রাইমে অভ্যস্ত আন্তর্জাতিক কোনও আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাং এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। তার কথাবার্তা শুনে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে এটা পরিষ্কার যে তার সম্পূর্ণ মগজ ধোলাই হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এক উঠতি যুবক যেভাবে পুলিশকে প্রতি পদে পদে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করছে তা সাধারণ মানুষ করতে পারে না। তাই পুলিশের সন্দেহ এই খুনের ঘটনার সঙ্গে আরও অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত আছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *