খবর লাইভ : ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়ে, সাংসদ জন বার্লা পৃথক রাজ্যের দাবি তুলেছেন। এবার তাঁর এই প্রস্তাব উত্তরবঙ্গ বিজেপির ভাঙনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আজই আলিপুরদুয়ারের বিজেপির জেলা সভাপতি-সহ জেলার শীর্ষনেতারা যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলে। রবিবার এ কথা নিজেই জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। সাংসদ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে যে দাবি তুলেছেন, তাতে সায় নেই আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দাদের, আর সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, আগামীতে ডুয়ার্সে ধসে যাবে বিজেপি।
এ দিন গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে সশরীরে হাজির হবেন তিনি। সেখানেই ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেবেন। তিনি একা নন, সঙ্গে জেলার শীর্ষ বিজেপি নেতা বিনোদ মিঞ্জ, বীরেন্দ্র বরা, বিপ্লব সরকাররাও তাদের অনুগামীদের নিয়ে যোগ দেবেন তৃণমূলে। সূত্রের খবর, বর্তমানে কলকাতাতেই রয়েছেন গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। সোমবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর কোনও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিজেপির বিরুদ্ধে বোমা ফাটাতে পারেন তিনি। এদিন তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি এও বলেছেন, ‘প্রথমে আমরা যোগদান করব। এরপর ডুয়ার্সে বিজেপির ধস নামবে।’
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের পর উত্তরবঙ্গে কার্যত গেরুয়া ঝড় চলেছে। তারপর একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে একাধিক নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই উলট পুরাণ। বিজেপি ছাড়ার হিড়িক লেগে গিয়েছে। শুধু ‘দলবদলু’রাই নন, তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন বহু বিজেপি নেতাও। আর সেখানে বাকি থাকল না উত্তরবঙ্গও। সম্প্রতি দলের সাংসদ জন বার্লা যখন ‘বঙ্গভঙ্গ’-এর পক্ষে সরব হয়েছেন। উত্তরবঙ্গে বিজেপির অনেকটা শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়েই যখন পৃথক রাজ্যের দাবি তুলেছেন তিনি। তখন দলের একাংশ নেতাকর্মীরা বলছেন, ভাগাভাগি তাঁরা চান না। তাই বাংলা ভাগের আগে নিজেরাই দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।




