খবর লাইভ : একুশের ভোটযুদ্ধে সাঙ্গ হয়েও হচ্ছে না সাঙ্গ। এ যেন সেই রবি ঠাকুরের ছোটগল্প। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম, যা দেশের ভূমি আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান সেখানেই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি সামিল হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁরই ভাবশিষ্য শুভেন্দু অধিকারী। সেই ভোটযুদ্ধে পরাস্ত হয়েছেন মমতা। কিন্তু সেই ফলাফল নিয়ে বিতর্ক যেমন দিন কে দিন বেড়ে গিয়েছে তেমনই সময় গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে নানা নিয়মভঙ্গের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই অবস্থায় এই কেন্দ্রের ভোটের পুনর্গণনা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। এদিন ছিল সেই মামলার শুনানি। কিন্তু এদিন আর এই মামলার শুনানি হয়নি। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
গত ২ মে ছিল রাজ্য বিধানসভার ভোট গণনার দিন। সেদিন সকাল থেকেই বাংলা তো বটেই গোটা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল বাংলার রায় জানার জন্য। সকলের নজরেই ছিল নন্দীগ্রাম। কেন না রাজ্যের এই কেন্দ্রেই ছিল সব থেকে হাইভোল্টেজ লড়াই। মমতার সঙ্গে শুভেন্দুর লড়াই। কিন্তু প্রথম থেকেই সেই লড়াই ঘিরে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলছিল তৃণমূল। বহিরাগতদের এনে নন্দীগ্রামে জড়ো করা, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো চমকানো, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মারধর, খুন, হুমকি প্রদর্শন, ভোটের দিন বুথে এজেন্ট বসতে না দেওয়া, একের পর এক বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার মতো হাজারো অভিযোগ উঠেছিল। সব থেকে বড় অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিজেপির সঙ্গে কমিশনও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল মমতাকে হারানোর জন্য। এমনকি এই নন্দীগ্রামের বুকেই হামলার ঘটনা ঘটে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর। কার্যত ভাঙা পা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে দাঁতে দাঁত চিপে হুইল চেয়ারে বসে নির্বাচন যুদ্ধ সামলাতে হয়েছে। গণনার দিনও একাধিক অসঙ্গতির ঘটনা ঘটে। শেষে মাত্র দুই হাজারের সামান্য বেশি ভোটে জয়ী হন শুভেন্দু। তৃণমূলের তরফে এই কেন্দ্রের পুনর্গণনা চাওয়া হয়েছিল তা কমিশন বাতিল করে দিয়েছিল। শেষে রায় বার হওয়ার ৪১ দিনের মাথায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় পুনর্গণনা চেয়ে আবেদন।
এদিন বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী নির্বাচনী মামলার আবেদনকারীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে বলে জানান বিচারপতি। যেহেতু এই মামলার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই আদালতে তাঁকে উপস্থিত থাকতে হত। কিন্তু এদিন তিনি না থাকায় সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করলে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না তা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর কাছে জানতে চান বিচারপতি। জবাবে, মমতার আইনজীবী জানান, যা নিয়ম আছে তা মানা হবে। এরপরেই এদিন বিচারপতি জানিয়ে দেন আগামী বৃহস্পতিবার ২৪ জুন এই মামলার শুনানি হবে। তবে এদিন বিধানসভার ফল সংক্রান্ত মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে ওঠা নিয়ে প্রতিবাদ জানান আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বিচারপতি কৌশিক চন্দ এক সময় বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাই আগামী দিনে এই মামলা অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসে যাবে নাকি নারদ মামলার মতো বৃহত্তর কোনও বেঞ্চে শুনানি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে এদিন। উল্লেখ্য, গত ২মে ভোট গণনার দিন একসময় মমতাকেই জয়ী বলে ঘোষণা করেছিল কমিশন। জানিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী জিতেছেন ১২০০ ভোটে। পরে তাঁরাই সিদ্ধান্ত বদলে জানান, মমতা নন শুভেন্দু জিতেছেন ২৫০০ ভোটে। এই রহস্য আদৌ কোনওদিন সমাধান হবে কিনা তা নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।




