District

অভিষেককে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত দেবাশিস আচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু

0
(0)

খবর লাইভ : ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি তৎকালীন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চড় মারেন এক যুবক। মোবাইলে ছবি তোলার নামে এগিয়ে এসে সপাটে চড় মারা ব্যক্তির নাম জানা যায় দেবাশিস আচার্য। কিন্তু সেই কথা সকলেই ভুলে যান, হারিয়ে যায় দেবাশিস। আচমকাই চলতি বছরে নির্বাচনের আগে কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক সভা করতে যাওয়ার আগে বিজেপি নেতা কনিষ্ক পণ্ডার হাত ধরে উদয় হয় দেবাশিসের। ২০১৫ স্মৃতি উস্কে দেবাশিসকে মনে করিয়ে অভিষেককে ‘ভয়’ দেখান শুভেন্দুর ডান হাত কনিষ্ক।

আর সেই দেবাশিসের আকস্মিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। গতকাল রাত থেকে উধাও ছিলেন দেবাশিস। বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত দেবাশিসকে আজ সকালেই ক্ষতবিক্ষত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু দুপুরেই মৃত্যু হয় তাঁর। আর এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন কনিষ্ক পণ্ডা। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের দলের কর্মী দেবাশিসকে রাজনৈতিক কারণে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। যদিও এই দাবি অস্বীকার করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র তাপস মাইতি জানিয়েছেন, দেবাশিসের মৃত্যুর ঘটনা আদৌ খুন কিনা, তা আমরা জানি না। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।’ তমলুক থানার ওসি জানিয়েছেন, এটা আদৌও খুন কিনা তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার সেটা।

ঘটনার সম্পর্কে দেবাশিসের বন্ধু শুভঙ্কর বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ৯ নাগাদ আমি, দেবাশিস এবং সঞ্জয় দেবনাথ আর এক বন্ধু মোটর বাইকে তমলুক শহরের অদূরে মাতঙ্গিনী ব্লকের অন্তর্গত নেতাজিনগরে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের টোল প্লাজার কাছে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিলাম। দেবাশিস হঠাৎ অন্য একজনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে কিছুক্ষণ সময় চেয়ে সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু তিনি ফেরেননি। আমরা প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর চা-দোকানিকে বলে বাড়ি চলে আসি। বাড়ি ফিরে দেবাশিসদাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু মোবাইল বন্ধ ছিল।’ তারপর আজ সকালেই তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দেবাশিসের শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষতের চিহ্ন ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দোষারোপ শুরু হয়েছে। তমলুক এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত আচার্য পরিবার। দেবাশিসের মা শিবানী আচার্য বিজেপি মহিলা মোর্চার তমলুক নগর মন্ডলের সহ-সভানেত্রী।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *