খবর লাইভ: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের দৈনিক সংক্রমণ চার হাজারের গণ্ডির নিচে এলেও আপাতত কড়া বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার পক্ষে নয় রাজ্য সরকার। বরং আরও দু’সপ্তাহের জন্য কড়া বিধিনিষেধ চালু রাখার পক্ষপাতী রাজ্যের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবং সাধারণ মানুষের রুজি-রোজগারের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস ও মেট্রো চালানোরও অনুমতি দেওয়া হতে পারে। আজ নবান্নে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকেই কড়া বিধিনিষেধ জারি রেখে কোন কোন ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
রাজ্যে বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার পরেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছিল। দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমেই লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়। অর্থাৎ কার্যত অঘোষিত লকডাউন জারি করা হয়। তার সুফল মিলতেও শুরু করে। দৈনিক সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু কোনও ঝুঁকি না নিয়ে কড়া বিধিনিষেধের সময়সীমা ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় নির্মাণ, জুট, চা শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়।
কিন্তু টানা একমাস বাস বা ট্রেন বন্ধ থাকায় অর্থনীতি কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। ফলে অর্থনীতিকে বাঁচানো এবং গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের। এক মাস কড়া বিধিনিষেধের ফলে দৈনিক সংক্রমণ চার হাজারের গণ্ডির নিচে নেমে এলেও অবশ্য সব কিছু এখনই হুট করে খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ও চিকিৎসকরা। তাঁরা চান, আরও অম্তত ২ সপ্তাহ কড়া বিধিনিষেধ চালু রাখা হোক। শনিবারই রাজ্যের যে ১০ জেলায় করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে ১০ প্রবীণ আমলাকে বিশেষ নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার থেকে রেস্তোরাঁ, শপিং মল সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রকে সীমিত সংখ্যক কর্মীকে নিয়ে চালু করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বেশ কিছু বেসরকারি অফিস ও কারখানাও ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে চালুর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। আর সেক্ষেত্রে যাতে সাধারণ মানুষের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের অসুবিধা না হয় তার জন্য বাস ও মেট্রো চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। তবে লোকাল ট্রেন ও আন্তঃ জেলা বাস সার্ভিস আপাতত বন্ধই রাখা হচ্ছে।




