Special News State

ফুল বদলে তৃণমূলে সপুত্র মুকুল, ‘ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড’ পুরনো সতীর্থকে উষ্ণ অভ্যর্থনা মমতার

0
(0)

খবর লাইভ : দীর্ঘ ৩ বছর ৯ মাসের ব্যবধান। অনেক ঘটনার ঘনঘটার সাক্ষী থেকেছে বঙ্গ রাজনীতি। লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত উত্থান ঘটা বিজেপি ভূমিশয্যা নিয়েছে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে। তার মাঝেই শুক্রবার সব মান-অভিমানের পালা সাঙ্গ করে তৃণমূলে ফিরে এলেন বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ মুকুল রায়। একা নন, পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও বাবার হাত ধরে ফিরেছেন পুরনো দলে। সেই সঙ্গে যেন একটা রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। এক সময়ের সতীর্থকে দলে ফিরিয়ে আনতে পেরে আপ্লুত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তো কখনও ‘ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা’, ‘ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড’ বলে মুকুলকে উষ্ণ স্বাগতও জানালেন। পাল্টা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে ‘দেশের ভবিষ্যত নেত্রী’ বলে আখ্যাও দিলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য।
দলে তো ফিরলেন এক সময়ের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। কিন্তু কী দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হবে বঙ্গ রাজনীতিকে হাতের তালুর মতো চেনা মুকুল রায়ের কাঁধে, সেই প্রশ্নও উঠেছিল তৃণমূল ভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে। সাংবাদিকদের সেই গুগলি প্রশ্নের জবাবে ছক্কা হাঁকিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মুকুল আগে দলে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন এখনও তাই করবেন।’ সূত্রের খবর, এক সময়ের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডকে দিয়েই রাজ্যে বিজেপির শিঁকড় নাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য করার কাজেও লাগানো হবে পোড়খাওয়া এই রাজনীতিবিদকে।
কংগ্রেস রাজনীতি করার সময় থেকেই মুকুলের সঙ্গে মমতার সুমধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একসময়ে সেই সম্পর্কের জেরেই তৃণমূল নেত্রীর বিশ্বস্ত সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা। তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার পরে দলের দ্বিতীয় পদে মুকুলকেই বসিয়েছিলেন মমতা। একটা সময় কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে পরিচিত ছিলেন মুকুল। সংগঠনে তিনি ছিলেন শেষ কথা। মুকুল তাঁর এতটাই আস্থাভাজন ছিলেন যে তাঁর সিদ্ধান্তে শুধু শিলমোহর দিতেন মমতা।
সেই ‘মধুর’ সম্পর্ক ধাক্কা খেয়েছিল ২০১৭ সালে। সারদা এবং নারদা কাণ্ডে নাম জড়িয়ে সিবিআই নোটিশ পাওয়ার পরেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছিল মুকুলের। ২০১৭-র দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন নিজাম প্যালেসে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার পরে ৩ নভেম্বর দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে আসীন হন। কিন্তু বিধানসভা ভোটে কার্যত দলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল ২০১৯ সালে বিজেপিকে বাংলায় সাফল্য এনে দেওয়া মুকুলকে। ভোটের পরেই তাঁর দল ছাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আর সেই জল্পনা এদিন দুপুরে রাস্তবে রূপ নিল।
দুপুরে সল্টেলেকের বাড়ি থেকে পুত্র শুভ্রাংশুকে সঙ্গে নিয়ে তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে হাজির হন মুকুল। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক ধরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে মমতা-অভিষেক সহ তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। মুকুলকে দলে স্বাগত জানান তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন অভিষেক। তার পরে সংক্ষিপ্ত সাংবাদিক বৈঠকে দলে ফিরে আসা নিয়ে মুকুল বলেন, ‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। পুরনোদের সঙ্গে দেখা হল। বিজেপি করতে পারলাম না। করবও না। তাই পুরনো দলে ফিরে এলাম। বাকি বিস্তারিত কারণ লিখিত ভাবে জানাব।’ মমতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ‘এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন আমাদের নেত্রী, ভারতের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তাঁর হাত ধরেই অনেকে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে সামিল হয়েছিলেন, তাঁরা ফের পুরনো দলে ফিরবে কিনা জানতে চাইলে সহাস্যে মুকুল বলেন, ‘আরও কারা কারা আসবেন সেটা আগামী দিনেই দেখা যাবে। কিন্তু বিজেপিতে আর বেশি লোক থাকবে না।’
দলে ফিরে আসা মুকুলকে এদিন অস্বস্তিমূলক প্রশ্নবানের হাত থেকে বাঁচাতে অভিভাবকের ভূমিকায় বেশ কয়েকবার উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা। অনেকেটাই স্নেহের সঙ্গে আগলে রেখেছিলেন। বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম পোড়খাওয়া নেতাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মুকুল ঘরের ছেলে। ও ফিরে এসেছে। ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড। ওর শরীরও ভালো যাচ্ছিল না। মানসিকভাবেও এখন ভালো থাকবে। বিজেপিতে কেউ ভালো থাকতে পারে না। ওখানে কোনও গণতন্ত্র নেই। শুধু শোষণ চলে। মুকুলকে অনেক চমকে-ধমকে এজেন্সির ভয় দেখিয়ে রেখেছিল।’ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে মুকুল দল ছেড়েছিলেন, তাও মানতে চাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘অভিষেকের সঙ্গে কখনওই মুকুলের মতবিরোধ ছিল না। কারও সঙ্গেই ছিল না।’ তবে মুকুলকে দলে ফেরালেও ‘গদ্দারদের’ দলে ফেরানো হবে না বলে এদিন ফের একবার জানিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *