খবর লাইভ : লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের। চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করল বিজেপি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঠিক কী হয়েছে ঘটনাটি? মালয়ালাম একটি চ্যানেলে বিতর্ক সভায় অংশ নেন আয়েশা। সেখানে তিনি বলেন, সংক্রমণের শুরুর দিকে লাক্ষাদ্বীপে একজনও করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। এখন প্রতিদিনই ১০০ জন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। কেন্দ্রের তরফে করোনাকে ‘জৈব অস্ত্র’ হিসাবে পাঠানো হয়েছে। ব্যস এরপরই রাজধানী কাভারাত্তি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি সভাপতি সি আবদুল কাদের হাজি। তাঁর দাবি, ওই মহিলা পরিচালকের মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও ফেসবুকে পরিচালক নিজের মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে লেখেন, ‘আমি টিভি চ্যানেলে বিতর্ক অনুষ্ঠানে জৈব অস্ত্র কথাটা ব্যবহার করি। আমার মনে হয়েছে, প্যাটেল এবং তাঁর সিদ্ধান্তগুলি জৈব অস্ত্রের সমান। প্যাটেলের কারণেই লাক্ষাদ্বীপে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। আমি প্যাটেলকে জৈব অস্ত্র বলেছি, কেন্দ্র বা দেশকে বলিনি। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। এছাড়াও ওনাকে আর কী বলব।’ তবে কেবল দেশদ্রোহিতা নয়, বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও আনা হয়েছে লাক্ষাদ্বীপের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে।
তবে লাক্ষাদ্বীপের সাহিত্য প্রবর্তক সঙ্গম বৃহস্পতিবার আয়েশার পাশে দাঁড়িয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র কে বাহির বলেছেন, ‘আয়েশাকে দেশদ্রোহী হিসাবে তকমা দেওয়া উচিত নয়। আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বিজেপির সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর টুইট করে লেখেন, দেশদ্রোহী শব্দের অপব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, লাক্ষাদ্বীপের নতুন প্রশাসক প্রফুল প্যাটেল একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর প্রতিবাদ জানান সমাজের বহু বিশিষ্টজন। এমনকি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি লেখেন ৯৩ জন প্রাক্তন আমলা। বিতর্কের রেশ এমন স্তরে যায় যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়ে ছিলেন, দ্বীপের বাসিন্দাদের মতামত না নিয়ে নতুন কোনও নীতি চালু করা হবে না।




