State

‘ঘরের ছেলে ঘরে’! শাহ-নাড্ডার দোষে হাতছাড়া মুকুল, মনে করছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব

0
(0)

খবর লাইভ : জল্পনা চলছিল অনেকদিন ধরেই। শুক্রবার দুপুরেই তাতে শিলমোহর পড়ল। ঘাসফুল ছেড়ে ফের পুরনো দলে ফিরলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। আর প্রবীণ এই নেতার দলত্যাগকে কেন্দ্র করে ফের কার্যত দ্বিধাবিভক্ত বঙ্গ বিজেপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ‘দলবদলু’ সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিংয়ের মতো তৃতীয় সারির নেতারা ‘মীরজাফর, ‘ক্ষমতালোভী’ বলে মুকুলকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সংযত থেকেছেন দিলীপ ঘোষ সহ বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্ররা।
বিজেপিতে থাকাকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপের সঙ্গে মুকুলের তেমন বনিবনা ছিল না। কিন্তু এদিন দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতির দলত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শিষ্টাচার দেখালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললেন, ‘কেউ যেতে চাইলে যাবে। তবে ওনার থাকাতে বিজেপির কোনও লাভ হয়নি। না থাকাতেও কোনও ক্ষতি হবে না।’ মুকুলের দলত্যাগের খানিক বাদেই সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘মুকুলবাবুকে নতুন ইনিংসের শুভেচ্ছা। উনি পুরনো দলে নতুন ইনিংস শুরু করলেন, এই পদক্ষেপের বিচার ভবিষ্যতে হবে। উনি বর্ষীয়ান নেতা, ওনার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু বলার নেই। শুধু শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের এমন সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। মুকুলের দলত্যাগের পরেই বঙ্গ বিজেপির অধিকাংশ নেতা দলের দুই শীর্ষ নেতা শাহ ও নাড্ডার সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, ‘বিধানসভা ভোটে ভুল রণনীতি নিয়ে যেমন দলের ভরাডুবি ঘটিয়েছিলেন দুই শীর্ষ নেতা, তেমনই মুকুলের দলত্যাগের পথও প্রশস্ত করেছেন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জায়গায় দলে ভাঙনের সূত্রপাত ঘটালেন।’
মুকুলের দলত্যাগের পিছনে অমিত শাহ-জেপি নাড্ডা কীভাবে দায়ী? রাজ্য বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘মুকুলের মতো পোড়খাওয়া নেতাকে দলে কোনঠাসা করে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে অকারণে মাতামাতি শুরু করেছেন শাহ-নাড্ডারা। অধিকাংশই বিধায়ক মুকুলকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চাওয়াকে উপেক্ষা করে মাত্র ২২ বিধায়কের সমর্থন পাওয়া শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতার পদে বসানো, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনার জন্য বার বার দিল্লিতে তলব করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছেন দু’জনেই। ভোটের পরেই মুকুলের দল ছাড়া নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মুকুলের সঙ্গে কথা বলে তাঁর অভিমান মেটানোর চেষ্টা করেননি। যদি একটা চেষ্টা চালানো হতো, তাহলে পরিস্থিতি দলত্যাগের জায়গায় পৌঁছত না।’
শুধু মুকুলই নন, দলের আরও একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ দল ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা চলছে। শুভেন্দু কিংবা সৌমিত্র খাঁ-অর্জুন সিংয়ের মতো বিশ্বাসযোগ্যহীন নেতাদের সামনে রেখে দল ভাঙন রোখার যে পরিকল্পনা করছেন শাহ-নাড্ডা, তাও মুখ থুবড়ে পড়বে বলেই মনে করছেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। দলের অন্দরে শুভেন্দুকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি যে কতটা অসন্তোষ তৈরি করেছে তা অনুপম হাজরার ফেসবুক পোস্টেই স্পষ্ট। ওই ফেসবুক পোস্টে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক লিখেছেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন দু-একজন নেতাকে নিয়ে অতি মাতামাতি করা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও লবি বাজি করে বাকিদের বসিয়ে রেখে অবজ্ঞা ও অপমান করার করুণ পরিণতি।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *