State

মুকুল-রাজীবরা দলে থাকছেন না ধরেই নিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব

0
(0)

খবর লাইভ : বিধানসভা ভোটে ‘মিশন বাংলা’ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়তেই ছন্নছাড়া দশা বঙ্গ বিজেপির। দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের পালা। বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে নিচুতলায় ভাঙন। এমতাবস্থায় কী করে দলকে ‘এককাট্টা’ রাখা যায় তা নিয়েই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের। দলের প্রবীণ নেতা মুকুল রায় এবং বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা দলে থাকবেন না তা ধরেই নিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এমতাবস্থায় কীভাবে বাংলায় দলের শক্তি ধরে রাখা যায় তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন শাহ-নাড্ডারা।
সূত্রের খবর, মুকুল যদি দল ছেড়ে চলে যান তাহলে যাতে তাঁর সঙ্গে আসা নেতারা দল না ছাড়েন তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। কতজন বিধায়ক ও সাংসদ দল ছাড়তে পারেন, কারা সেই বিধায়ক ও সাংসদ তার একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় থাকা সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দলত্যাগে নিরস্ত করতে বেশ কয়েকজন নেতাকে আসরে নামানো হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে এক সময়ে মুকুলের হাত ধরে আসা নেতাদের উপরে বিশেষ ভরসা রাখছেন শাহ- নাড্ডারা। নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর পরে মুকুল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, সৌমিত্র খাঁ ও অর্জুন সিংকে দিল্লিতে জরুরি তলব করা হয়েছে। তিন সাংসদই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জরুরি তলবে দিল্লি গিয়েছেন। পাশাপাশি তলব করা হয়েছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়কেও। যদিও চার জনের দিল্লিতে যাওয়ার বিষয়টি জানতেনই না রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা। রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে যেভাবে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের নিয়ে শাহ-নাড্ডারা মাতামাতি করছেন তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ তাঁরা।
বিজেপির অন্দরের রাজনীতির খোঁজখবর নিয়মিত রাখা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ঘাসফুল ছেড়ে যাঁরা পদ্মে এসেছিলেন, সেই নেতাদের তৃণমূলে ফেরা রুখতে রাজ্য নেতৃত্বে রদবদল আনতে পারে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপের সঙ্গে ভিন দল থেকে আসা নেতাদের তেমন বনিবনা নেই। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে এই দুজনকে সরিয়ে নেতৃত্বে নতুন মুখ নিয়ে আসা হতে পারে। আরএসএস যদি দিলীপকে সরানোর ক্ষেত্রে আপত্তি জানায় সেক্ষেত্রে কাউকে কার্যকরী সভাপতি পদে বসিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির ক্ষমতার ডানা ছাঁটা হতে পারে। রাজ্য সভাপতি পদে বদল না আনলেও ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক পদে বদল আনা নিশ্চিত। ভূপেন্দ্র যাদব কিংবা অন্য কাউকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের জায়গায় আনা হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজ্য কমিটি ভেঙে দিয়ে সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের ঠাঁই দিয়ে দলের ভাঙন রোখার একটা চেষ্টা চালাতে চাইছেন শাহ-নাড্ডা জুটি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *