খবর লাইভ : মুকুল রায় পুত্র শুভ্রাংশুর পর এবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে টু্ইট করলেন রাজীব।ট্যুইটারে তৃণমূলের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী লেখেন, ‘বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা ভালো ভাবে নেবে না মানুষ। ৩৫৬-র ভয় দেখালে মানুষ তা ভালো ভাবে নেবে না।’ রাজীব নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না, তবে ডোমজুড়ের ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মন্তব্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
বাংলাতে ভোটপর্ব মিটলেও অশান্তি অব্যাহত। এমনই অভিযোগ বঙ্গ বিজেপির।এবার সেই অভিযোগে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন পদ্মনেতা। এই ইস্যুতে ২৩ জুন থেকে লাগাতার ধরনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানাবে বঙ্গ বিজেপি। মঙ্গলবার হেস্টিংস কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তবে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেল রাজীবের গলায়। ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব টুইটারে লিখেছেন, ‘সমালোচনা তো অনেক হল….মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না।’ হুবহু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই তিনি লেখেন, ‘আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে কোভিড ও যশের মতো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা।’
বিধানসভা ভোটে ‘লজ্জাজনক’ হারের পরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তা থামার নামগন্ধ নেই। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রকাশ্যে নেতাদের মধ্যে মতভেদ। মঙ্গলবারই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ শেষে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, ‘রাজ্য সরকার সংবিধান মানছে না। ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। রাজ্যে ৩৫৬ জারির থেকেও খারাপ অবস্থা।’ আর তার কয়েক ঘণ্টা বাদেই শিশির অধিকারী পুত্রের উল্টো কথা বলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব।
রাজীব যেদিন এই পোস্ট করেছেন, সেদিনই বঙ্গ বিজেপির পদাধিকারীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে নালিশ জানানো হবে। অর্থাৎ বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানানোর পথে হাঁটতে চলেছেন বিধানসভা ভোটে পরাজিত পদ্ম শিবিরের নেতারা। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কেউ বেসুরো পোস্ট করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে না পারে তার জন্য এক শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিন অবশ্য দলের বৈঠকে যোগই দেননি রাজীব। শুধু তাই নয়, আত্মীয়ের অসুস্থতার কথা বলে বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই দলকে বিড়ম্বনায় ফেলে এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন। ফলে রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রীর ঘর ওয়াপসি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।




