খবর লাইভ : আশানুরূপ ফল হয়নি বিধানসভা নির্বাচনে। সত্তরের বেশি কিছু আসন নিয়ে অবশ্য প্রধান বিরোধীদলের তকমা পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু আগামীর রণনীতি কী হবে? কীভাবে চাপে রাখা যাবে শাসক তৃণমূলকে? সূত্রের খবর, সেই সমস্ত বিষয়ই আলোচনা করতে মঙ্গলবার হেস্টিংসের বিজেপি কার্যালয়ে বৈঠক ডাকেন দিলীপ ঘোষ। নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠক শুরু হয়ে গেলেও পাত্তা মিলল না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের। যদিও রাজ্য সভাপতি দিলীপের ক্ষোভ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েই।
রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর গত শনিবার সাংগঠনিক বৈঠক সেরেছে তৃণমূল। তবে এই প্রথমবার বাংলার বিধানসভায় বিরোধী দল বিজেপির পরিকল্পনা কী হবে আগামী দিনে, মঙ্গলবারই সে বড় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। সমস্ত বিধায়কদের যেমন আসতে বলা হয়েছিল, পাশাপাশি পরাজিত প্রার্থীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বৈঠকে। কিন্তু কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তথা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়ই এলেন না বৈঠকে। অন্যদিকে ভোটের মুখে দল বদলে ডোমজুড় থেকে বিজেপির হয়ে লড়ে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও এড়ালেন দিলীপ ঘোষের বৈঠক। তিনি শুধু একা নন, প্রাক্তন বনমন্ত্রীর সঙ্গে একই চার্টার্ড বিমানে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদানকারীরা প্রায় কেউই আসেননি হেস্টিংসের বিজেপি কার্যালয়ে।
তবে আগে থেকেই অনুপস্থিতদের নিয়ে আসা আশঙ্কা ছিল বিজেপির অন্দরেই। নজরে ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধাননগরের পরাজিত প্রার্থী সব্যসাচী দত্তের ওপরেও। যদিও তাঁরা দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত নন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ক্ষোভ আবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর।
সূত্রের খবর, শুভেন্দু বর্তমানে দিল্লিতে। এদিনের রাজ্য বৈঠকে তিনি ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বৈঠকের শুরুতেই এ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘শুভেন্দু তো জানে মিটিং আছে, তাও দিল্লি গিয়েছেন। কেন গিয়েছেন তা আমি জানিনা। সেটা উনি আর দিল্লির নেতারাই বলতে পারবেন।’ ভোটে তৃণমূলের কাছে হারের পর বিজেপি শিবিরে ভাঙন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এদিন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ পাওয়া গেল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।




