খবর লাইভ : সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পরার কারণ বিশ্লেষণে এবং সাংগঠনিক রদবদলের লক্ষ্যে আগামিকাল বৈঠকে বসছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। মূলত রাজ্যের ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোন পথে এগোবে দল? কীভাবে দলের নিচুতলা থেকে উঁচুতলায় ভাঙন রোধ করা যাবে, এসব নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ১০টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিকে সরিয়ে নতুন মুখ নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের একাংশকেও রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবারের বৈঠক প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমরা সংগঠনকে মজবুত করেছি। হতে পারে বুথস্তরে সংগঠনকে তেমন শক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। বাংলার বহু মানুষ আমাদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। তাঁরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জনমতের প্রতিফলন কেন ইভিএমে ঘটল না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে রিপোর্ট এসেছে অনেক প্রার্থী গণনা কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কেন তাঁরা করলেন, তা নিয়ে বিশ্লেষণ জরুরি।’ সাংগঠনিক রদবদলের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘সংগঠনের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই রদবদল করা হয়। প্রয়োজন হলে তেমন রদবদল হবে।’
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে পদ্ম শিবির। ভোটের পরেই রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে গিয়েছেন বঙ্গ দখলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাঠানো ভিন রাজ্যের নেতারা। বিধানসভা ভোটের পরে হারের কারণ বিশ্লেষণে শাহ-জেপি নাড্ডার দূত হয়ে এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক BL সন্তোষ।কার্যত তরজায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। তাছাড়া ভার্চুয়ালি একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তেমনভাবে হারের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়নি। সূত্রের খবর, হারের কারণ বিশ্লেষণের বৈঠকে দলের আন্দরের গোষ্ঠীকোন্দলের নগ্ন চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়ুক তা চাননি দলের শীর্ষ নেতারা। তাই পর্যালোচনা বৈঠক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার দলের সর্বস্তরের সাংগঠনিক পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠকে মূলত সাংগঠনিক রদবদলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পুর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, হাওড়া শহর ও হাওড়া গ্রামীণ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বারাসত, বসিরহাট, ব্যারাকপুর, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর সহ যে সব সাংগঠনিক জেলায় দলের ভরাডুবি হয়েছে সেই সব জেলার সভাপতিদের সরিয়ে দলের আদি কর্মীদের হাতে সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ভোটের সময়ে রাজ্য কমিটির অনেক নেতা দলীয় প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের কারণে তেমনভাবে সক্রিয় ছিলেন না, তাঁদেরকেও সরিয়ে দিয়ে যোগ্যদের রেখে দেওয়া হতে পারে।




