State

জোড়া বিপদে জেরবার শ‍ুভেন্দ‍ু!

0
(0)

খবর লাইভ : শনিবার রাতে কলকাতার মানিকতলা এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার রাখাল বেরা। আর তার জেরেই রাজ্য বিজেপি শিবিরে ছড়িয়েছে উদ্বেগ। কেননা এই রাখালই এখন পুলিশের হাতে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে চলেছে বাঁধ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। আর সেই কেলেঙ্কারির অভিমুখেই রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১২ জ‍ুন পর্যন্ত প‍ুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ এই কানকে টেনে মাথায় পৌঁছাতে উদ্যোগী হয়েছে।
রবিবার রাখালকে পেশ করা হয় আদালতে। সেখান থেকে তাঁকে পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মানে রাখালকে এবার জিজ্ঞাসাবাদের পূর্ণ সুযোগ পেয়ে গেল পুলিশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হঠাৎ রাখালের দিকেই বা কেন নজর পড়ল পুলিশের? সেটা জানতে হলে অবশ্যই রাখালের ইতিবৃত্ত জানাটাও দরকার।

রাখাল পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। দিঘায় রাখালের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ব্যবসা। এই রাখাল বেরা কন্টাই কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর। এমনকী শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন। কলকাতায় তাঁর একটি ব্যবসাও রয়েছে। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি কন্টাই কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাথায় বসতে পেরেছিলেন বলে অনেকেই মনে করেন। এহেন রাখালের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে ঘুষের বিনিময়ে চাকরির টোপ দেওয়ার চক্র চালানো ও সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা কামানোর।
উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা সুজিত দে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মানিকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, রাখাল সহ আরও কয়েকজন সেচ দফতরের গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার নামে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি পাননি বলে অভিযোগ সুজিতের। এই একই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সেচ দফতরের প্রাক্তন কর্মী চঞ্চল নন্দীরও। তাঁর বাড়ি কাঁথি শহরেই। এই চঞ্চলই রাখালের কাছে সুজিতকে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও এখন চঞ্চল নিজেই নিখোঁজ। পুলিশ এখন তাঁর সন্ধান শুরু করেছে।

তবে এরমধ্যেই রাখালকে গ্রেফতার করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আর এইসব তথ্যের জেরেই শুভেন্দুর কাছে পৌঁছাতে তারা সক্ষম হবেন বলেই মনে করছে পুলিশ। এদিন আদালতে রাখালের আইনজীবী কল্লোল দাস দাবি করেন, শুভেন্দু অনুগামী বলেই রাখালকে ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও পরে তৃণমূলের তরফে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ফাঁসানোর প্রশ্নই ওঠে না। কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনাও ঘটেনি। যখন অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তখন তো পুলিশ গ্রেফতার করবেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ওটা, পাঁচ বছর তদন্ত হওয়ার পর যখন চার্জশিট পেশের দিন চারজনকে গ্রেফতার করা হল।’
তবে শুভেন্দু এই ঘটনায় বড়সড় বিপাকে পড়ে যেতে পারেন দেখেই এদিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে বলেছেন, ‘নিজেদের মুখ লুকোতেই এখন এসব কথা বলছে। দুয়ারে জল, তাই দুয়ারে যেতে পারছে না। মুখ লুকোতে কিছু তো বলতে হবে, তাই এসব কথা বলছে।’ শুভেন্দুর অবশ্য পাল্টা দাবি, ‘তদন্ত করে দেখুক না। তাহলেই বোঝা যাবে। আমি কয়েকমাসের জন্য সেচমন্ত্রী হয়েছিলাম। তারপর লকডাউন জারি হয়। কোনও ফাইলে আমার সই নেই। কোনও মন্ত্রীকে কাজ করতে দেন না মুখ্যমন্ত্রী।’
অন্যদিকে, কাঁথির প‍ুর ভবন থেকে শ‍ুভেন্দ‍ু ও তাঁর ভাই সৌমেন্দ‍ু অধিকারীর বির‍ুদ্ধে ত্রিপল চ‍ুরির অভিযোগ উঠেছে। কাঁথি প‍ুরসভা ও প‍ুলিশ স‍ূত্রে খবর, ২৯ মে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ প‍ুরসভার ডরমেটরি সংলগ্ন ভবন থেকে ত্রানের ত্রিপল সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ানকেও দেখা যায় বলে অভিযোগ। ওই দিনই প‍ুর প্রশাসক সিদ্ধার্থ মাইতি কাঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ১ জ‍ুন প‍ুর প্রশাসক মণ্ডল‍ীর সদস্য রত্নদীপ মান্না দ্বিতীয় অভিযোগটি দায়ের করেন। সেখানে অভিযোগ জানানো হয়, বাহিনীর উপস্থিতিতে শ‍ুভেন্দ‍ু ঘনিষ্ঠ কিছ‍ু দ‍ুষ্কৃত‍ী লক্ষাধিক টাকার ত্রিপল ল‍ুট করে পালিয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *