State

ছত্রধরও থাকতে চান গৃহবন্দি, মামলা ভিন্ন রাজ্যে সরাতে মরিয়া এনআইএ

0
(0)

খবর লাইভ : রাজধানী এক্সপ্রেস অপহরণ মামলায় ধৃত ছত্রধর মাহাতো এখন রয়েছেন জেল হেফাজতে। সেখান থেকেই শুক্রবার তিনি ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিচারকের কাছে তাঁকে গৃহবন্দি রাখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী মারফত। সেই আবেদনে তিনি জানিয়েছেন, কোভিডকালে তাঁকেও গৃহবন্দি থাকার সুযোগ করে দেওয়া হোক। কেননা তিনিও অসুস্থ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতে থাকলেও তদন্তে সহযোগিতা করবেন।

আদালতে ছত্রধরের আইনজীবী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘উনি অসুস্থ। তাই গৃহবন্দি থাকতে আদালতে আবেদন করেছেন। তদন্তে সহযোগিতা বাড়ি থেকেও করতে পারবেন। আবেদনের ওপর সোমবার আদালতে শুনানি হবে।’ স‍ূত্রের খবর, এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার ছত্রধর গৃহবন্দি থাকার আবেদন জানালেও আদালতে তার বিরোধিতা করবে এনআইএ। প্রয়োজনে তারা মামলা ভিনরাজ্যেও নিয়ে যাওয়ার পথ ধরতে পারে।

তবে এনআইএ’র অভিপ্রায় যে খুব সহজেই পূরণ হবে এমন আশাও দেখছেন না আইনজীব‍ীরা। বিশেষ করে এই মামলা এখনও হাইকোর্টেই পৌঁছায়নি। ছত্রধরের মামলা ভিন্ন রাজ্যে সরাতে গেলে এনআইকে তার আবেদন করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে। শুধু আবেদন করলেই হবে না, আবেদনের স্বপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরতে হবে। যা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।
নারদ মামলায় আদালত রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতাকে যেভাবে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছিল সেই রাস্তাতে হেঁটেই ছত্রধর আবেদন করেছেন। নিম্ন আদালতে ধাক্কা খেলে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রথমে গৃহবন্দি ও পরে তাঁর জামিন পাওয়া খুব একটা অসুবিধা হবে না বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।

এর কারণ হিসাবে উঠে আসছে এনআইয়ের দাবি। যে ঘটনার জেরে ছত্রধরকে এনআইএ গ্রেফতার করা হয় সেই রাজধানী এক্সপ্রেস হাইজ্যাকের ঘটনার সময় ছত্রধর নিজেই জেলে ছিলেন। নারদ মামলায় দেখা গিয়েছে, হাইকোর্ট কার্যত এই যুক্তি নস্যাৎ করে দিয়েছে যে আদালত চত্বরে ধর্না দেওয়া মানেই এটা নয় যে তার মধ্যে অভিযুক্তরা জড়িত বা সেই ধর্না মূল মামলায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সেই একই যুক্তিতে এটাও বলা যায়, জেলে বন্দি থাকা ছত্রধর কীভাবে রাজধানী এক্সপ্রেস হ্যাইজ্যাকের ঘটনায় জড়িত হন? এই প্রশ্ন কিন্তু এবার উঠবে। এর উত্তর এনআইএকেই দিতে হবে। আর এইসব অপ্রিয় প্রশ্নের মুখে পড়ে যথাযথ উত্তর দিতে পারবে না বলেই এনআইএ এখন ছত্রধর মামলা ভিন রাজ্যে সরাবার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রাজনীতির কারবারিদের।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *