District

ঋণের জ্বালায় স্ত্রী, পুত্রকে খুন করে ‘আত্মঘাতী’ সোদপুরে ব্যবসায়ী

0
(0)

খবর লাইভ : বিগত দু’ তিনদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের দেখা পাননি প্রতিবেশীরা। এরপরই বাড়ি থেকে হঠাৎই দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে গৃহকর্তার ঝুলন্ত দেহ এবং স্ত্রী ও পুত্রের দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোটও। স্থানীয়দের অনুমান, দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন পরিবারের তিনজনই।

সোদপুর স্টেশন সংলগ্ন বসাক বাগান এলাকার ঘটনা। শুক্রবার সকালে এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় খড়দহ থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির দরজা ভাঙতে গৃহকর্তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই সঙ্গে পাশেই পড়ে থাকতে দেখা যায় স্ত্রী ও ছেলের নিথর দেহও। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম সমীর কুমার গুহ। তিনি একজন পোশাক ব্যবসায়ী ছিলেন। বসাক বাগানের নিজস্ব বাড়িতে স্ত্রী ঝুমা গুহ ও ছেলে বাবাইকে নিয়েই থাকতেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর লকডাউনের সময় থেকেই সমীরবাবুর ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। সংসার ও ব্যবসা চালাতে বাজারে প্রচুর ধার দেনাও করে বসেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁকে বেশ চুপচাপ লক্ষ্য করেন প্রতিবেশীরা। সেইসঙ্গে বাড়ির বাইরেও খুব একটা বেরোতে দেখা যেত না ইদানীং।

এরইমধ্যে শুক্রবার সকালে গুহ বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। হঠাৎই দুর্গন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ হয় পাড়া প্রতিবেশীদের। তাঁরাই খড়দহ থানায় বিষয়টি জানান। এরপরই পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখে তিনজনই মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহগুলির পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সমীরবাবুর এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লেখা রয়েছে। লেখা রয়েছে, ‘প্রিয় পার্থ ঘোষ তোকে দায়িত্ব গিয়ে গেলাম, ঘরের আসবাব পত্র যা রয়েছে তা বিক্রি করে বকেয়া টাকাগুলো মিটিয়ে দিস।’ বেশ কয়েকজন টাকা প্রাপকের নামও লেখা রয়েছে সেখানে। এ থেকেই পুলিশের অনুমান, দেনার দায়েই এই ঘটনা। তবে সবদিক খোলা রেখেই তদন্ত করছে পুলিশ। মৃতদেহগুলি সাগর দত্ত পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই ধরনের ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা এখনও ভেবে উঠতে পারছেন না এলাকার লোকজন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *