খবর লাইভ : করোনার টিকার দামে বৈষম্য কেন? এই নিয়ে আগেই প্রশ্ন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এবার কেন্দ্রের ভ্যাকসিন নীতির পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ৪৫ বছরের উর্ধ্বে যাঁরা, তাঁদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিচ্ছে কেন্দ্র। অথচ তার থেকে কম বয়সীদের টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার কেন্দ্রীয় নীতি অবাস্তব ও অযৌক্তিক। আদালতের নির্দেশ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কীভাবে সব দেশবাসীকে টিকা দেওয়া হবে, তার রোডম্যাপ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট করুক কেন্দ্র। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ, এখনও পর্যন্ত কত টিকা এসেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করুক কেন্দ্রীয় সরকার। ৩০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি।
সোমবার টিকার দাম নিয়ে কেন্দ্রকে সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের দাম দিয়ে টিকা নেওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্র। ৪৫ এর বেশি যাঁরা তাঁদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে টিকা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনায় মারা যাচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে ১৮-৪৪ বছরের জন্য কেন্দ্রের দাম নিয়ে টিকাকরণ নীতি দৃশ্যত অযৌক্তিক এবং খামখেয়ালি মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছে। বিচারপতিরা আরও বলেন, প্রশাসনিক নীতির নামে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালত নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারবে না।
কেন্দ্রের টিকা নীতি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রের টিকা নীতিতে বেশ কিছু গলদ রয়েছে। টিকার দামের বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এল এন রাও এবং বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের বেঞ্চ। সেই শুনানি সংক্রান্ত নির্দেশ বুধবার ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তাতে বিচারপতিদের স্পষ্ট বক্তব্য, টিকাকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১৮-৪৪ বছরের যাঁরা তাঁরাও করোনাতে সংক্রমিত হচ্ছেন। অতিমারির এই পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে তাঁদেরও টিকাকরণ দরকার। ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের টিকাকরণ প্রয়োজন বলেই ৪৫ ঊর্ধ্বদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন এবং তার থেকে কম বয়সীদের জন্য টাকা দিয়ে রাজ্য ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ভ্যাকসিন কেনার নীতি একেবারেই যুক্তিহীন ও অবাস্তব।




