State

রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পরেই আলাপনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুভেন্দুর

0
(0)

খবর লাইভ : শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তথাকথিত পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ না দেওয়ার পিছনে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও দোষ নেই বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ৯৬ ঘন্টা বাদে নন্দিগ্রামের সেই বিধায়কই প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপনের গায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে রাজভবনে গিয়ে জরুরি আলোচনা শেষে যেভাবে আলাপনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তাতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের’ গন্ধই পাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ‘দিল্লির প্রভুদের অঙুলিহেলনেই এই ধরণের কথা বলছেন অধিকারী পরিবারের মেজোছেলে।’ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর অভিযোগ নিয়ে বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতা মুখ খুলতে চাননি। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য বিজেপির এক সহ সভাপতির কথায়, ‘বিধানসভা ভোটের পরে যেভাবে জেপি নাড্ডা-অমিত শাহরা বাংলা নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াবে। দলটাই না বাংলায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।’
রাজভবন থেকে বেরিয়ে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, ‘সরকারের অনেক বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছেন আলাপনবাবু। তাই তাঁকে রক্ষা করার জন্য মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২০ সালে যখন করোনা অতিমারি শুরু হয়, তারপর ভুয়ো কিট কেনা নিয়ে তদন্তের জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আলাপনবাবু। সেই কমিটির রিপোর্ট কোথায়! বিরোধী দলনেতা হিসেবে সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার দাবি আমি করছি।’
এখানেই থামেননি তিনি। বিজেপির নয়া মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অণ্ডাল বিমানবন্দরের জন্য ২৩০০ একর জমি কৃষকের কাছে থেকে নেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন আলাপনবাবু। সরকারের ইক্যুইটি শেয়ার প্রথমে ১১, পরে ২৬ পরে ৪৭ শতাংশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে প্রচুর টাকা লোন দিয়েছে। তার আসল তো দূরের কথা সুদও এখনও পর্যন্ত আসেনি। এই সমস্ত ভাবে সরকারের অনেক বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছেন।’ আলাপন ও তৃণমূল সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তাঁর কথায়, ‘আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় শাসকদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছেন। আলাপনবাবুর কথা আর তৃণমূলের মুখপাত্রের কথা এক হয়ে গিয়েছে। আলাপনকে আড়াল করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।’
এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিষেক রাজনীতিতে এখনও নাবালক। ওই নাবালক নেতার কথার উত্তর দেব না।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *