State

আলাপনের অবসরকালীন সুবিধা আটকে দিচ্ছে কেন্দ্র, ৭২ ঘন্টার লড়াইয়ে মোদি-শাহকে ফের টেক্কা দিলেন মমতা

0
(0)

খবর লাইভ : সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে হারিয়েছে তৃণমূল। বিধানসভা ভোটের এক মাসের মধ্যে ফের একবার হারিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, আলাপন অবসর নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না মোদি-শাহের কাছে। তাই এবার বাংলার প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে ‘হাতে না মারতে পেরে ভাতে মারার’ কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় ক্যাডার হওয়ার সুবাদে তাঁর যাবতীয় অবসরকালীন সুবিধা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল শুক্রবার রাতে। ‘ইয়াসের’ ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তথাকথিত প্রশাসনিক বৈঠকে (রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক বৈঠক) গরহাজির থাকায় ওইদিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে বদলির নির্দেশ জারি করেছিল কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার মধ্যেই তাঁকে দিল্লির নর্থ ব্লকে হাজিরার ফরমান জারি করা হয়েছিল।
যদিও সেই ফরমান মানতে পারেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরিই ওই নির্দেশের বিরোধিতা করে শনিবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সোমবার সকালে বদলির নির্দেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচ পাতার এক চিঠিও পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে সম্মান দিয়ে বদলির নির্দেশ কেন্দ্র প্রত্যাহার করে নেবে বলেও আশায় ছিলেন মমতা।
রাজ্য সরকার রিলিজ অর্ডার না দেওয়ায় দিল্লিতে কাজে যোগ দিতে পারেননি আলাপন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পরেও ফের রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে নর্থ ব্লকে হাজিরার জন্য ফের ফরমান জারি করেছেন কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকের আধিকারিকরা। কিন্তু ততক্ষণে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন আলাপন। ফলে তিনি আর কেন্দ্রের কোনও নির্দেশ মানতে বাধ্য নন। তবু তাতেও থামতে রাজি নন কেন্দ্রের শাসকরা। প্রাক্তন মুখ্যসচিবের অবসরের পর তাঁর পাওনা তথা পেনশনের ওপরে বিধিনিষেধ আনার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে তাতে আদালতে মোদি-শাহদের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বলেই মনে করছেন একাধিক প্রাক্তন আমলা। কেন্দ্রীয় সরকারে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘যদি কেন্দ্র তাঁর অবসর জীবনের পাওনা আটকানোর চেষ্টা করে, তাহলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকছে আলাপনের কাছে। শীর্ষ আদালত সহ একাধিক আদালত এ বিষয়ে অতীতে যে রায় দিয়েছে, তাতে আলাপনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *