খবর লাইভ : আগামী বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিজেপি এক বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন এনেছে। পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে ভিন রাজ্যের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীদের হাতে, যাতে উন্নত সংগঠন গঠন করা যায় এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে মাঠস্তর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র করা যায়।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্টি পুরো রাজ্যকে ছয়টি স্ট্র্যাটেজিক অঞ্চল ভাগ করেছে এবং প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে অভিজ্ঞ ইন-চার্জ, যারা অতীতে কঠিন পরিস্থিতিতে পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন ও নেতাদের নাম
রাঢ় বঙ্গ: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানসহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন চত্তীসগড় দলের সাধারণ সম্পাদক পবন সাইক, যিনি এখানে কাজ করবেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী ধন সিং রাওয়াত-এর সঙ্গে।
হাওড়-হুগলি-মেদিনীপুর এলাকা: দিল্লির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পবন রানা হাওড়া, হুগলি ও মেদিনীপুরের মূল দায়িত্বে থাকবেন। তবে হাওড়া ও হুগলিকে আলাদা ভাগ করা হয়েছে; হরিয়ানার সিনিয়র নেতা সঞ্জয় ভাটিয়া হুগলির দায়িত্বে, এবং পূর্ব মেদিনীপুরে দায়িত্ব দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী জে পি এস রাঠৌর।
কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা: এখানে দলের সংগঠন দুর্বল বলে মনে করে বিজেপি, তাই দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে হিমাচল প্রদেশের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক এম. সিদ্ধার্থন-কে। এছাড়া কর্ণাটকের তরুণ নেতা সি টি রবিকেও দেওয়া হয়েছে ইনচার্জ দায়িত্ব।
নবদ্বীপ ও উত্তর ২৪ পরগণা: মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে বলে অন্ধ্রপ্রদেশের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক এন. মধুকর দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি সহায়তা পাবে উত্তর প্রদেশের নেতা সুরেশ রানা-এর থেকে।
উত্তরবঙ্গ এলাকা: মালদহ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের নেতা অনন্ত নারায়ণ মিশ্র-কে। শিলিগুড়ি এজিয়া (অঞ্চালায়) দায়িত্ব পেয়েছেন কর্ণাটকের অরুণ বিন্নাড়ি।
দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকা: দায়িত্ব নিয়েছেন সর্বভারতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। পাশাপাশি, কোচবিহারে প্রধান ইনচার্জ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো নিচুতল পর্যন্ত শক্তি তৈরি করা, বিশেষ করে বুথ-স্তরে সংগঠন মজবুত করা এবং ২০২১-এর অভিজ্ঞতা থেকে শিখে আরও কার্যকর কৌশল তৈরি করা।
এছাড়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ইন-চার্জ নিয়োগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট সংকেত তারা শুধু ভোটের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে চায়।




