খবর লাইভ : আগামী ৩১ মে তারিখে দিল্লির নর্থ ব্লকের অফিসে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেই ছাড়লেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নবান্ন সূত্রে আরও খবর, আলাপনের বদলির বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে আজই কেন্দ্রকে চিঠি দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তিনি সাফ জানিয়ে দেবেন যে রাজ্য সরকার তাঁকে ছাড়ছে না।
কেন্দ্র জোরাজুরি করলে রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতেও পিছুপা হবে না। বস্তুত কেন্দ্র যেভাবে আলাপনকে দিল্লিতে বদলি করার চিঠি পাঠিয়েছে তার জেরে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে প্রথমে রাজীব কুমার ও পরে রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠী ও ভোলানাথ পাণ্ডেকে নিয়ে কেন্দ্রের ‘প্রতিহিংসার রাজনীতির’ বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তেমনই কঠোর অবস্থান নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষ ও কর্মঠ আধিকারিককে কিছুতেই তিনি কেন্দ্রের চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য ছাড়বেন না।
আইএএস ক্যাডার রুলসের ১৯৫৪’র ৬(১) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই ধারায় বলা হয়েছে আইএএসদের ডেপুটেশন সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিরোধ বাঁধলে সেখানে কেন্দ্র সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। রাজ্যের আপত্তি সেখানে ধোপে টিকবে না। যদিও রাজ্যের দাবি, যদি সত্যিই এক্ষেত্রে রাজ্যের কোনও কিছু বলার না থাকে তাহলে কেন্দ্র কেন রাজ্যকে অনুরোধ করছে আলাপনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য? আর এই কারণেই রাজ্য সরকার প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে।
গতকাল যশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কলাইকুণ্ডাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠকে যোগ দেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দিল্লি থেকে এক ফরমান জারি করে কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক আগামী ৩১ মে সোমবার সকাল দশটার মধ্যেই তাঁকে দিল্লির নর্থ ব্লকে হাজিরা দিতে বলেছে।
এমনিতে আইএএস আধিকারিকরা কেন্দ্রের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকের অধীনস্ত কর্মচারি হলেও তাঁরা যে রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করেন সেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার যদি না ছাড়তে চান, তাহলে কেন্দ্রের কোনও পদে যোগ দিতে পারেন না। আলাপনের ক্ষেত্রেও সেই রাস্তা বেছে নিচ্ছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিন সবার চোখ আটকে থাকবে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে কী বলেন সেই দিকেই।



