খবর লাইভ : আমফান থেকে কোভিড মোকাবিলা, দুয়ারে সরকার থেকে দুয়ারে রেশন-সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন তিনি। নিছক বিরোধিতার কারণে আর রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্ক কষেই প্রত্যেকবার রাজনৈতিক শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাকে সমালোচনার বানে বিদ্ধ করেছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার সেই তিনিই যশ মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী আর রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসায় বিগলিত। আর দিলীপের এমন ডিগবাজি নিয়ে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেউ বলছেন, ‘এ তো ভূতের মুখে রাম নাম’, আবার কেউ বলছেন বিলম্বিত বোধোদয়।
যশ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার যেভাবে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তার প্রশংসা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বুধবার বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারও হাত থাকে না। তবে আমফানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় এবার রাজ্য সরকার যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে ভালো কাজ করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই বোঝা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। তবে আপাতদৃষ্টিতে সব কিছু ঠিক হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’ বিরোধিতাকে দূরে সরিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে যে বঙ্গ বিজেপি প্রস্তুত, সে কথাও এদিন জানিয়েছেন দিলীপ। তাঁর কথায়, ‘ইতিমধ্যেই বিজেপির জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে। রাজনীতি পরেও করা যাবে। আগে দুর্গতদের বাঁচানো ও তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রধান কাজ। রাজ্য সরকার যদি চায়, তাহলে বিজেপি সাহায্য করতে তৈরি আছে।’
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে গত বছর রাজ্যে বেনজির তাণ্ডব চালানো আমফান মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা ও ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন বিজেপির শীর্ষ ও রাজ্য নেতারা। কিন্তু ভোটের ফলচিত্র বলছে, ‘আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় দুর্দান্ত ফল করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।’ অর্থাৎ বিজেপির প্রচার কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘আমফান নিয়ে রাজ্য সরকারকে লাগাতার নিশানার কোনও রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড ঘরে তুলতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তাই এবার যশ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে।’



