খবর লাইভ : যশের তাণ্ডব। রুদ্রমূর্তিতে সমুদ্র। জলে ভাসল উপকূলের একের পর এক গ্রাম। ভাঙল বাঁধ। দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতেও ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামের পর গ্রামে নদীর জল ঢুকে গিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার। ওই দুই জেলাতেই যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দিঘা যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
যশের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত বাংলার একাংশ। রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায় জানান, আগামী ২৮ মে মুখ্যমন্ত্রী বিধ্বস্ত এলাকা আকাশপথে পরিদর্শনে যাবেন। যে যে এলাকাগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে জায়গায় জায়গায় তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ যাবেন আকাশপথে। সন্দেশখালি, ধামাখালি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। সেখান থেকে আকাশপথে যাবেন সাগরে। সুন্দরবন এলাকার বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন গঙ্গাসাগরে।
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনেই পূর্ব মেদিনীপুরে যাওয়ার কথা জানান মমতা। পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব জানান, সাগরে বৈঠক শেষে আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন পূর্ব মেদিনীপুরে। প্রথমে যাবেন দিঘায়। সেখানে এলাকা পরিদর্শন করে যাবেন কাঁথিতে। রামনগরের পরিস্থিতিও ভয়ানক, তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী যাবেন তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও। শনিবার মেদিনীপুরের বিপর্যস্ত এলাকাগুলির প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন তিনি। প্রয়োজনীয় যাবতীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করেই কলকাতায় ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানান, আমি ভেবেছিলাম বৃহস্পতিবারই পরিদর্শনে যাব। কিন্তু খবর পেয়েছি বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি হবে। তাই হেলিকপ্টারে যেতে পারবো না। শুক্রবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলি আমি পরিদর্শনে যাব। যশে এখনও পর্যন্ত বাংলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ কোটি মানুষ। ১৫ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তাঁদের প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে সঙ্ঘাতকে গুরুত্ব দেব না। আমাদের সাধ্যের মধ্যে দাঁড়িয়েই যা করার তা আমরা করব।



