National

মদ বিক্রি হচ্ছে রমরমিয়ে, অথচ গোমাংস ও মাছে নিষেধাজ্ঞা লাক্ষাদ্বীপে

0
(0)

খবর লাইভ : কাশ্মীরের পর এবার আরও একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপেও কি সাম্প্রদায়িক শক্তি চোখ রাঙাচ্ছে? খুব ইচ্ছে সেখানে নতুন প্রশাসক প্রফুল খোদা প্যাটেল ৯৭% এরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার সম্পন্ন এই দ্বীপের জীবনযাপন ও চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। ফলে এই দ্বীপটির প্রশাসককে নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা।

কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন প্রশাসক? মাছে নিষেধাজ্ঞা, গো মাংসে নিষেধাজ্ঞা, ২ এর বেশি সন্তান থাকলে পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ানোতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই দ্বীপপুঞ্জে অপরাধ একেবারে নেই বললেই চলে। সেখানে গুন্ডা দমন আইন প্রণয়ন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া নতুন আইনে উন্নয়নের কাজে যে কোনও জমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে প্রশাসনের। প্রশাসকের সিদ্ধান্ত নিয়ে পার্শ্ববর্তী কেরলের সিপিএম-কংগ্রেস একযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, “প্রশাসকের পদক্ষেপ লাক্ষাদ্বীপের সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপন কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই ধরনের আইন কখনও মানা যায় না। লাক্ষাদ্বীপের সঙ্গে কেরলের দীর্ঘদিনের আত্মীয়তা। কিন্তু সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে।” লাক্ষাদ্বীপের সাংসদ মোহাম্মদ ফয়জল স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। আর অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকে প্যাটেলের কারণে প্রায় ৩০০ মানুষ কাজ হারান। প্যাটেলের স্বৈরাচারী জনবিরোধী নীতির জেরে কেন্দ্রের কাছে চিঠি লিখে অপসারণের দাবি তুলেছেন অনেকেই।

উল্লেখ্য লাক্ষাদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি রেগুলেশন ২০২১ প্রশাসককে কোনও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দ্বীপের বাসিন্দাদের সম্পত্তি থেকে অপসারণ বা স্থানান্তর করার ক্ষমতা প্রদান করে। অন্যদিকে ‘গুন্ডা নীতি’ বিরোধী সামাজিক কাজের আওতায় একজন ব্যক্তিকে যে কোনও সময় কারণ ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে। পাশাপাশি প্যাটেল লাক্ষাদ্বীপের স্কুল মেনু থেকে আমিষ খাদ্যসামগ্রী গুলি সরিয়ে দেন। অথচ ঐ সব অঞ্চলের মানুষের খাদ্য তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে সামুদ্রিক মাছ। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্যাটেলের আদেশ ও নিয়ম জনগণের খাবারের পছন্দ ও জীবিকার বিষয়ে কোনও রকম বিচার বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে এখন ঢালাও মদের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এনআরসি বিরোধী সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কোস্টাল প্রটেকশন আইনের আওতায় মৎস্যজীবীদের ২০০ টি ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেসব গুরুত্বপূর্ণ দফতর এতদিন জেলা পঞ্চায়েতের অধীনে ছিল, সেগুলি পঞ্চায়েতের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই দ্বীপের ৭০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে বেশিরভাগই মৎস্যজীবী। নতুন প্রশাসন তাদের জীবিকা বন্ধের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী কোভিড বিধি ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ তে এখানে করোনা সংক্রমণের খবর ছিল না। কিন্তু প্যাটেল দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়ম করায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন প্যাটেল ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগীও বটে। প্রাক্তন প্রশাসক ও আইপিএস দীনশ্বর শর্মা মারা যাওয়ার পর প্যাটেলকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক করা হয়। এর আগে ২০১৬ তে তাকে দমন ও দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলি প্রশাসক করা হয়েছিল।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *