খবর লাইভ : সামনের বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। যাঁর ম্যাজিকে বাজি জিততো বিজেপি, সেই নরেন্দ্র মোদির চমক এবার ফিকে। অথচ উত্তরপ্রদেশ জিততে না পারলে ২০২৪ এর লোকসভা ভোটেও তার প্রভাব পড়বে। তাই গো বলয় জিততে কে হবেন মুখ? এইসব প্রশ্ন নিয়েই অতি গোপনে বৈঠক করল বিজেপি ও আরএসএস।
কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে ব্যর্থ মোদি সরকার। টিকার সংকট মানুষকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। শুধু বিরোধী দল নয়, মোদির সমালোচনা করেছে বিদেশি একাধিক পত্র-পত্রিকা। তাদেরও একই দাবি, ভারতে করোনার বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী মোদি। এমনকি সম্প্রতি কোভিড নিয়ে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রীর ‘কান্না’ নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে চলেছে মসকরা। এই অবস্থায় উত্তরপ্রদেশ জিততে কোন স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করা যায় তারই খোঁজে গেরুয়া শিবির? তবে সমাধানের কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না আরএসএস কিংবা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ জয়ের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করতে রবিবার রাতে দিল্লিতে বিজেপির দুই প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসল।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির জয়ের পথে ধাক্কা দিচ্ছে করোনা কাঁটা। এই ধাক্কায় মোদির জনপ্রিয়তাও নিম্নমুখী। সূত্রের খবর, করোনা আবহে মোদি সরকারের ভাবমূর্তি যে ক্ষুন্ন হয়েছে, তা মানছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বও। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে লড়াইয়ের ময়দানে ‘বাউন্সব্যাক’ করা যায়, কী করলে ফের উত্তরপ্রদেশের মানুষের মন জয় করা যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে করোনায় মৃতদের একাধিক নির্মম ছবি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। মৃতদেহ ভাসছে গঙ্গা যমুনায়। কোথাও বা বালি চাপা দিয়ে পুঁতে ফেলা হয়েছে দেহ। সব মিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে আম আদমির। আর এর প্রতিফলন যে ভোটবাক্সে পড়বে না, সে কথা কেউ বলতে পারেন না। সম্প্রতি পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনগুলিতে তার ট্রেলার দেখেছে গেরুয়া ব্রিগেড। সবমিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ জয় এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ বিজেপি ও আরএসএসের কাছে।



