Local News Special News State

রাজ্য বিজেপি-তে কি গ‍ুর‍ুত্বহীন দিলীপ‌? সভাপতি বদলের জোর জল্পনা

5
(1)

খবর লাইভ ‌: ভোটের আগে অনেক বিতর্কিত, অমানবিক, অশ্লীল কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর সেই ব‍ুলি বঙ্গবাসী যে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেননি তা বেশ বুঝতে পেরেছেন পদ্ম নেতারা। যদিও তিনি তা বুঝেছেন কিনা তা এখনও প্রশ্ন হয়ে ঝুলে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যে অনুকূল নয় তা বেশ বুঝতে পারছেন তিনি। কোনও একটি বিষয় নিয়ে মুখ খুললেই দলেরই নেতারা তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাত ছিল তাঁর মাথার ওপর। কিন্তু আর কতদিন সেই হাত থাকবে তা তিনি নিজেই জানেন না। আর সেই কারণেই যতই দিন যাচ্ছে ততই বঙ্গ বিজেপিতে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন তিনি, মানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
দিলীপের ভ‍ূমিকা নিয়ে এখন অনেকেই প্রশ্ন করছেন। তবে শুরুটা করেছিলেন তথাগত রায়। নাম না করেই দিলীপের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। কিন্তু দলের মাঝারি আর ছোট নেতারা তাঁরা তো আর চুপ করে বসে থাকবেন না। তাই তাঁরাই এখন ব্যাটন ধরেছেন দিলীপকে কোণঠাসা করতে।
পরিস্থিতি এখন এতটাই খারাপ যে, রাজ্য বিজেপির ডাকা বৈঠকে না কেউ হাজিরা দিচ্ছেন না তাঁর সঙ্গে ফোনে কেউ কথা বলতে চাইছেন। অন্তত রাজ্য বিজেপি সূত্রে তেমন খবরই মিলছে। একই সঙ্গে ভোটের আগে যে সব ঘাসফ‍ুল নেতারা ঝাঁকে ঝাঁকে পদ্মফ‍ুলে পা রেখেছিলেন, পরবর্তী তাঁদের দল ছাড়ার ঘটনা আরও বড় অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে দিলীপের জন্য বঙ্গ বিজেপিতে।

আর এখানেই চলে আসছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা, যা দলের নেতারা উড়িয়ে দিতে পারছেন না। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই হয়তো রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদে পরিবর্তন ঘটাতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেক্ষেত্রে দিলীপের জায়গায় আসতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। বেশ কিছু কারণ রয়েছে স্বপনের এই পদে মনোনীত হওয়ার জন্য। প্রথমত সংঘ পরিবার এটা অন্তত বুঝতে পেরেছে গোবলয়ের রাজনীতি আর বাংলার রাজনীতি ভীষণই আলাদা। বাংলার সেন্টিমেন্ট বুঝতে না পারলে বাঙালি কখনই বিজেপিকে আপন করবে না। আর তারজন্য চাই র‍ুচি সম্মত বাঙালি যাঁর মুখ দিয়ে অন্তত শ্র‍ুতিমধ‍ুর কথা শোনা যাবে। সেই সঙ্গে তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে হতে হবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির।
বিজেপির এই প্রবীন নেতা এই শর্ত পূরণ করেছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেও কোনও বিতর্কে জড়াননি। কটু বাক্য বা কটু শব্দ তাঁর মুখ থেকে শোনা যায় না। দ্বিতীয়ত তিনি মোদি ঘনিষ্ঠ। শাহের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। আবার বাংলার বিজেপির আদি ও নব্য দুই শিবিরের সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ মসৃণ। তাই তাঁকে অন্তত গোষ্ঠী বিবাদের মুখে পড়তে হবে না। এর বাইরে সংঘ পরিবারেও তাঁকে নিয়ে বিশেষ কোনও আপত্তি নেই। তাই দিলীপের জায়গায় স্বপন দাশগুপ্ত বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হয়ে গেলে সেখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *