Local News Special News State

নারদকাণ্ডের পরেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি ছাড়ার হিড়িক!

5
(1)

খবর লাইভ : বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কাই সত্যি হল। নারদকাণ্ডে তৃণমুলের তিন জনপ্রিয় ও দাপুটে নেতাকে গ্রেফতার করার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস, কোচবিহারের প্রাক্তন পুরপ্রধান ভূষণ সিংয়ের পরে শনিবার দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন সাতগাছিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল থেকে দলে আসা সোনালি গুহ।
আগেই সংখ্যালঘু নেতাদের বেশ কয়েকজন দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন জেলায় নিচুতলার নেতা-কর্মীরাও দলে-দলে ভিড়ছেন ঘাসফুল শিবিরে। দল ছাড়ার হিড়িককে মুখে পাত্তা না দিলেও মনে মনে প্রমাদ গুনছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, ‘নারদকাণ্ড নিয়ে অমিত শাহের এই সিদ্ধান্তের মূল্য চোকাতে হবে দলকে। বিধানসভা ভোটে দল যে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পেয়েছিল, তারাও মুখ ফেরাবেন।’
শনিবার দলত্যাগের হিড়িক নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অবশ্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন ‘ভোটের আগে অনেকে অনেক রকম উদ্দেশ্য নিয়ে দলে এসেছিলেন। এখন সে সব পূরণ হবে না বুঝতে পেরে চলে যাচ্ছেন। লড়াই করতে ভয় পাচ্ছেন। এঁদের আসা যাওয়াতে সংগঠনের কোনও ক্ষতি হয় না। যাঁরা দলের প্রকৃত সৈনিক তাঁরা সব সময়ে লড়াইতে থাকেন।’
সত্যিই কী দলের কোনও ক্ষতি হবে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফের বলেন, ‘যাঁরা সংগঠনকে ভালবাসেন, সংগঠন করতে চান, তাঁরা এখন জেলায়-জেলায় আক্রান্ত কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দল ছাড়ার কথা ভাবছেন না। যাঁরা ব্যক্তিস্বার্থে এসেছিলেন, তাঁরা চলে যাচ্ছেন।’
‘আয়ারাম-গয়ারামদের’ নিয়ে দল যে বিড়ম্বনায় পড়েছে, তার দায় নিতে রাজি হননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। তবে তাঁর অনুগামী এবং রাজ্য কমিটির এক সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘বেনোজলের মতো অন্য দল থেকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বার বার আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। সঙ্ঘের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রচারকরাও আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন কর্ণপাতই করা হয়নি। যোগদান মেলার নাম করে পাড়ায় কেউ চেনে না, তাঁকেও মঞ্চে তুলে মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বনাশের বীজ পোঁতা হয়েছে। অমিত শাহ-জেপি নাডডা-কৈলাস বিজয়বর্গীয়-শিবপ্রকাশরা এর জন্য ১০০ শতাংশ দায়ী। হাওয়া খারাপ বুঝে সবাই এখন নিজের-নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন। কেন রাজ্যে দলের এতো বড় সর্বনাশ করা হল, তার জবাব দেওয়ার দায় ওঁদের।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *