State

আতসকাচের তলায় রাজ্যপালের ‘সন্দেহজনক’ ভূমিকা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা

2
(1)

খবর লাইভ : সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বাংলার ভোটাররা ম‍ুখ ফিরিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার থেকে। ‘তিনমূর্তির’ বাংলা দখলের স্বপ্ন ভেঙে খানখান। মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে এবং রেকর্ড সংখ্যক আসনে জিতে তৃতীয়বারের মতো নবান্নের কুর্সি দখল করেছে তৃণমূল। কিন্তু ভোটে বাংলার মানুষের কাছে ধাক্কা খাওয়ার পরেও কি পিছনের দরজা দিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তিন মূর্তি‍? এমনই প্রশ্ন বহ‍ু রাজনীতির কারবারির।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে এমন সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর সোমবার যেভাবে রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্য ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের গ্রেফতার করা হল এবং সেই গ্রেফতারির মধ্যেই রাজ্যে আইনশৃ্ঙ্খলা নেই বলে অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর, তাতে শুভময় মৈত্র থেকে শুরু করে ইমনকল্যাণ লাহিড়ির মতো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির এক ষড়যন্ত্র চলছে। আর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অবশ্য মনে করছেন, প্রথমে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না করে সংবিধানের ৩৫৫ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচিত তৃণমূল সরকারকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পরেই দলের বিজয়ী সাংসদদের প্রথম বৈঠকে বাংলা ও কেরল দখলের মনোবাসনা প্রকাশ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। আর নমোর সেই মনোবাসনা পূরণে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অমিত শাহ- জেপি নাড্ডারা। নানা কৌশল খাটিয়ে নবান্ন দখলের মরিয়া চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সব চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটার, তরুণ প্রজন্ম, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসীরা প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপিকে।
কিন্তু সেই ধাক্কা যে হজম করতে পারছে না বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব, তা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই পরিষ্কার। বিজেপি কর্মীদের উপরে শাসকদলের আক্রমণের অভিযোগ তুলে তদন্তে দিল্লি থেকে পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিশেষ প্রতিনিধি দল। মহিলা কমিশন, তপশিলি কমিশন থেকে আরও বেশ কিছু সংস্থাকে আসরে নামানো হয়েছে। সবার শেষে নেমে পড়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান জগদীপ ধনকর। এমনই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক শুভময় মৈত্র, বিশ্বনাথ চক্রবর্তীদের মতে, একের পর এক রিপোর্টকে হাতিয়ার করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির অজুহাত খুঁজবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। নানাভাবে তৃণমূল কর্মী-ৎসমর্থকদের প্ররোচনা দিয়ে ভুল কাজে বাধ্য করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথ প্রশস্ত করে নিতে চাইছে। ফলে অনেকটাই সতর্ক থাকতে হবে তৃণমূল নেতাদের।
এদিন ফিরহাদ হাকিম- সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের গ্রেফতারের প্রতিবাদে নিজাম প্যালেসের সামনে তৃণমূল কর্মীরা আবেগতাড়িত হয়ে যে অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাকে হাতিয়ার করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে যেভাবে টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর, তাও ‘ষড়যন্ত্রের’ অন্যতম অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ওই টুইটে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলায় রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকেই এগোচ্ছে। পুলিশ এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে, আশা করি এই ধরনের আইন-শৃঙ্খলাহীন পরিস্থিতির পরিণতি কী তা আপনি বোঝেন।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *