খবর লাইভ : দলে গুরুত্ব না পেয়ে কেউ লোকসভা ভোটের আগে আবার কেউ সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম পতাকা হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে বিধানসভা ভোটে বিজেপি নেতারা সংখ্যালঘুদের নিশানা করে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তাতে তাঁরা যথেষ্টই ক্ষুব্ধ ছিলেন। কোণঠাসা হয়ে চুপচাপ বসেছিলেন। ভোটে ভরাডুবির পরেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিক সংখ্যালঘু নেতা। তালিকায় রয়েছেন পুরশুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক পারভেজ রহমান, কবিরুল ইসলাম, রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সহ সভাপতি কাশেম মোল্লা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ফের নিজেদের পুরনো দলেই ফিরতে চাইছেন তাঁরা।
যদিও তাঁদের ফেরানো হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘যাঁরা ফিরতে চাইছেন তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জেলা নেতৃত্বই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
একঝাঁক সংখ্যালঘু নেতার দল ছাড়া নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন মণ্ডল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘যাঁরা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে দলে এসেছেন, তাঁরাই ফের দল ছেড়ে যাচ্ছেন। যাঁরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের জন্য সংগঠনের কোনও ক্ষতি হবে না।’
মুকুল রায়ের হাত ধরেই তিন বছর আগে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ কাশেম মোল্লা। মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতার কথায়, ‘এটা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি বিজেপিতে সংখ্যালঘুদের কোনও জায়গা নেই, গুরুত্ব নেই। বিধানসভা ভোটে যেভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে, তা বাংলার মানুষ ভাল মনে নেননি। বিজেপিতে যোগ দেওয়া বড় ভুল হয়েছে। দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানাব।’
দলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভামঞ্চে গিয়ে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছিলেন পুরশুড়া কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পারভেজ রহমান। আশায় ছিলেন, তাঁকে দল প্রার্থী করবে। কিন্তু বিজেপির টিকিট মেলেনি। সূত্রের খবর, তাতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। তিনিও পুরনো দলে ফিরতে চান। অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের কাজকর্মে বীতশ্রদ্ধ। রবিবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিজেপিতে এসে ভুল করেছি। মোহভঙ্গ হয়েছে। বিজেপি দলটার দুটো রূপ। নেওয়ার আগে এক, পরে আর এক। এই দল বাংলায় কোনও দিন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।’
কিন্তু তৃণমূলে ফেরার পথ যে খুব মসৃণ নয়, তা জানেন ‘ঘর ওয়াপসি’ চাওয়া পদ্ম শিবিরের সংখ্যালঘু নেতারা। তবুও হাল ছাড়তে চাইছেন না তাঁরা। ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরার জন্য তাঁরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না।




