খবর লাইভ : হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার করছেন খোদ মন্ত্রী। শুনতে কষ্ট আর পড়তে বার বার হোঁচট খেতে হলেও, এটাই সত্যি। মিজোরামের বিদ্যুৎমন্ত্রী আর লালজিরলিয়াকে এই কাজ করতে দেখে অনেকেই কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁকে।
নির্বাচনের আগে নেতাদের গলায় শোনা যায় বড় বড় বুলি। সাধারণ হোক কিংবা নিম্নবিত্ত, সবার সঙ্গেই নিমেষে মিশে যেতে পারেন আম আর দুধের মতো। ব্যস, ওই পর্যন্তই। নির্বাচন শেষ। সম্পর্কও শেষ। তখন তাঁদের টিকিটিও খুঁজে পাবেন না। এটাই স্বাভাবিক। বলা যায় এটাই দস্তুর। কিন্তু দেশপ্রেম যে কাকে বলে, তা শিখিয়ে দিলেন আর লালজিরলিয়া।
মন্ত্রী নিজেও কোভিড আক্রান্ত। যে হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন, সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের। সেই হাসপাতালের মেঝে পরিষ্কার করতে দেখা গেল মন্ত্রীকে। এই কাজের পেছনে লুকিয়ে এক মহৎ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ অন্যান্যদের সামনেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তাঁর লক্ষ্য সমাজকে এভাবে বুঝিয়ে দেওয়া সংকটের সময় নিজেদের আমিত্ব ভুলে যান। বরং এগিয়ে আসুন যে কোনও প্রয়োজনে।
তবে এই প্রথম নয়। এর আগে বাড়িতে, কখনও বা অন্যান্য জায়গাতেও ঘর ঝাঁট দেওয়া কিংবা সাফ সাফাইয়ের কাজে দেখা গেছে তাঁকে। এই নিয়ে মন্ত্রী নিজে কী বলছেন? বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “আমি মেঝে পরিষ্কার করে নার্স কিংবা চিকিৎসকদের লজ্জায় ফেলতে চাইনি। অন্যদের কাছে উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছি। যাতে প্রয়োজনে এভাবেই এগিয়ে এসে কাজ করি। ঝাড়ুদারকে ডেকেছিলাম। কিন্তু সে তখন আসতে পারেনি। তাই ভাবলাম কাজ ফেলে না রেখে নিজেই করে ফেলি। আর এটা আমার কাছে নতুন কিছু নয়। বাড়িতে অনেকবারই করেছি। মন্ত্রী বলে যে এসমস্ত কাজ করা যাবে, এমনটা ভাবার কোনও মানে হয় না।”
ভিআইপি কালচারকে অবশ্য মিজোরামে অনেক মন্ত্রীই টাটা করে দিয়েছেন। কালো কাঁচের গাড়িতে না গিয়ে বাইক কিংবা বাসে সফর অনেক মন্ত্রীর কাছেই কোনও ব্যাপার না। এমনকী পাড়ার পিকনিকেও সেফের ভূমিকাতেও ধরা পড়েছেন তাঁরা। তাই বিদ্যুৎমন্ত্রীর হাসপাতালের মেঝে সাফ করার ছবি দেখে অনেকেই বলছেন, ‘একেই বলে স্বচ্ছ ভারত অভিযান।’




